লগ আউট
Are you sure you want to exist?
MTrading Team • আজ

RBA-র সুদের হার কমানোয় AUDUSD-এর দরপতন, U.S. মূল্যস্ফীতির তথ্যের আগে সতর্কতা

RBA-র সুদের হার কমানোয় AUDUSD-এর দরপতন, U.S. মূল্যস্ফীতির তথ্যের আগে সতর্কতা

বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ঝুঁকি, আর যুক্তরাষ্ট্রের CPI নিয়ে উদ্বেগে বাজারের গতি থমকে গেছে

মঙ্গলবারের শুরুর দিকে বাজারের মনোভাব অনিশ্চিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র-চীনের শুল্কবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, Federal Reserve-এর স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ এবং জুলাইয়ের যুক্তরাষ্ট্রের Consumer Price Index (CPI) প্রকাশের আগে সতর্কতার কারণে চাপের মুখে পড়ে। এই সতর্ক পরিবেশে US Dollar সামান্য বেড়ে পরে কিছুটা নেমে আসে, ফলে শেয়ার, ক্রিপ্টোকারেন্সি, পণ্য এবং Australian Dollar (AUD)-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের ওপর চাপ তৈরি হয়।

ঝুঁকির সূচক হিসেবে প্রায়ই বিবেচিত AUD-তে অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংকের সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্তের কারণে আরও চাপ তৈরি হয়েছে, ফলে টানা দরপতনের ধারা তিন দিনে গড়িয়েছে। AUD, NZD ও CAD-এর মতো পণ্যনির্ভর মুদ্রাগুলো চীনের ভোক্তা ও পরিষেবা খাতের ঋণ বাড়ানোর নতুন পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন শুল্কবিরতি অব্যাহত থাকার কারণে সমর্থন পেয়েছে, তবে তা ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে পারেনি। ওয়াল স্ট্রিটে দরপতন সত্ত্বেও এসব অগ্রগতিতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের আগে ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলেছেন। তিনি বৈঠকটিকে একটি “পরিস্থিতি যাচাইয়ের” আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য বৈঠকের পথ তৈরি করা। তবে, দখল করা ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাশিয়ার অস্বীকৃতি এবং ইউক্রেনকে ওই অঞ্চলগুলো ছেড়ে দেওয়ার দাবি শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে, ফলে যুদ্ধবিরতির পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর, বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভের, স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। চাকরির প্রতিবেদনে সংশোধন আনার কারণে ট্রাম্প ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের (BLS) কমিশনারকে বরখাস্ত করার পর এই উদ্বেগ আরও তীব্র হয়। এরপর তিনি পরিসংখ্যান বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই—এমন অর্থনীতিবিদ EJ Antoni-কে BLS-এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। এতে সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং মার্কিন ডলারের প্রাথমিক দরবৃদ্ধিও চাপের মুখে পড়ে। সোনার ওপর শুল্ক নিয়ে সাম্প্রতিক বিভ্রান্তির বিষয়েও ট্রাম্প কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন, সোনার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো শুল্ক আরোপ করবে না, এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবসায়িক আস্থা বেড়েছে, যদিও ব্যবসায়িক পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে, British Retail Consortium ও Barclays-এর তথ্য অনুযায়ী জুলাইয়ে খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। তবে জুনে 0.1% কমার পর সামগ্রিক ব্যয় বেড়েছে 1.4%।

এই প্রেক্ষাপটে, টানা দুই দিনের র্যালির পর U.S. Dollar Index (DXY) স্থির ছিল। তিন মাসের মধ্যে এক দিনে সবচেয়ে বড় পতনের পর সোনা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। AUDUSD টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে। EURUSD ও GBPUSD—দুটিই সামান্য বেড়েছে; যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থানের মিশ্র প্রতিবেদনের পরও ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম বেড়েছে। USDJPY টানা তৃতীয় দিনের মতো উঠেছে। NZDUSD টানা তৃতীয় সেশনেও কমেছে, আর সাত দিনের পতনের পর দুই মাসের সর্বনিম্ন থেকে তেলের দাম ঘুরে দাঁড়ানোয় USDCAD প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। সোমবারের উল্লম্ফনের পর ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম কমলেও, শেয়ারবাজারে সামান্য শক্তি ফিরে আসার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেগুলোও কিছুটা গতি ফিরে পেয়েছে। বন্ডের ইল্ডও সামান্য বেড়েছে।

EURUSD ও GBPUSD ঘুরে দাঁড়াল, USDJPY সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাল

মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং EU-এর ওপর সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক কমানোর আশাবাদে EURUSD তিন দিনের মধ্যে প্রথম দৈনিক দরবৃদ্ধি দেখিয়েছে। GBPUSD-ও ঘুরে দাঁড়িয়েছে; দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ থেকে সোমবারের পতন পুষিয়ে নিয়েছে, যদিও যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থানের মিশ্র তথ্য এবং Bank of England-এর আরও সুদহার কমানোর আলোচনা ছিল। BRC ও Barclays-এর ইতিবাচক খুচরা বিক্রি ও ব্যয়ের তথ্যের পাশাপাশি মার্কিন ডলারের দরপতনও সম্ভবত ব্রিটিশ পাউন্ডকে সমর্থন জুগিয়েছে।

দীর্ঘ ছুটির পর জাপানের বাজার খুলতেই USDJPY টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়েছে এবং এক সপ্তাহের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ডলারের দর কমলেও ইয়েনের দুর্বলতা BoJ-এর কড়া অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ কমা, যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের CPI প্রকাশের আগে বাজারে একত্রীকরণের ইঙ্গিত দিতে পারে।

অস্থিরতার পর AUDUSD-এর দরপতন

RBA 0.25% সুদের হার কমানোর পর AUDUSD প্রথমে পড়ে যায়, কিছুক্ষণের জন্য ঘুরে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত নিচে বন্ধ হয়। এর ফলে টানা তিন দিনের দরপতন হলো। RBA-র এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে NAB Business Confidence and Conditions-এর ইতিবাচক তথ্যের মিল ছিল না। অন্যদিকে, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা অস্ট্রেলিয়ান ডলারের অস্থির ট্রেডিং আরও বাড়িয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

NZDUSD-এর দর কমছে, USDCAD চাপে

NZDUSD টানা তৃতীয় দিনের মতো দরপতন বাড়িয়েছে; দুর্বল US Dollar বা চীন-সম্পর্কিত ইতিবাচক খবর থেকেও লাভবান হতে পারেনি। এদিকে, তিন দিনের বৃদ্ধির পর USDCAD প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য অপরিশোধিত তেলের দাম ঘুরে দাঁড়ালেও, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং Bank of Canada-র নরম অবস্থানের পূর্বাভাস সেই প্রভাব পুষিয়ে দিয়েছে।

সোনা ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, আর ক্রুড অয়েল ও ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম সামান্য বেড়েছে

তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক দরপতনের পর স্থিতিশীল হয়ে সোনার দামে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। দুর্বল মার্কিন ডলার এবং সোনার বারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে স্পষ্টতা এতে সহায়তা করেছে। চীনের প্রণোদনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীনের শুল্ক বিরতির আশাও সোনার দরপতন সীমিত রাখতে সাহায্য করেছে।

টানা সাত দিনের দরপতনের পর দুই মাসের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অপরিশোধিত তেলের দাম ধরে রেখেছে। বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মজুত কমার প্রত্যাশার মধ্যে ট্রেডাররা সতর্ক ছিলেন। তবে OPEC+ উৎপাদন বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা, বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং আরও তেল উত্তোলনে ট্রাম্পের চাপ—এসব কারণে দাম আর বাড়তে পারেনি।

মাসিক সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সরে আসার পর Bitcoin-এর দর স্থির ছিল। অন্যদিকে, টানা দুই দিনের পতনের পর Ethereum ঘুরে দাঁড়িয়ে 2021 সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রিপ্টো-সমর্থক নীতি নিয়ে বাড়তে থাকা আশাবাদ এবং ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা বাজারের মনোভাবকে সমর্থন করেছে। তবে শক্তিশালী টেকনিক্যাল রেজিস্ট্যান্স এবং CPI প্রকাশের আগে সতর্কতা ক্রেতাদের তৎপরতা সীমিত রেখেছে।

প্রধান সম্পদগুলোর সর্বশেষ দরপতন ও উত্থান

  • সাত দিনের দরপতনের ধারা ভাঙার পর WTI ক্রুড অয়েলের দাম সামান্য বেড়ে $64.20 হয়েছে। এতে দুই মাসের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে আগের দিনের ঘুরে দাঁড়ানোর ধারা আরও দীর্ঘ হয়েছে।
  • তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক দরপতনের পর তা কিছুটা পুষিয়ে সোনার দাম $3,355-এর কাছাকাছি সামান্য বেড়েছে।
  • US Dollar Index (DXY) 98.50-এর কাছাকাছি টানা দুই দিনের দরবৃদ্ধি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
  • ওয়াল স্ট্রিট সামান্য লোকসানে লেনদেন শেষ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টক ফিউচারসও কিছুটা নিচে নেমেছে। তবে এশিয়া-প্যাসিফিকের শেয়ারবাজার সামান্য বেড়েছে। প্রাথমিক ট্রেডিংয়ের সময় ইউরোপ ও ব্রিটেনের শেয়ারবাজারও সামান্য ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
  • আগের দিন বহু দিনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পর বিটকয়েন ও ইথেরিয়াম—দুটিরই দামে সামান্য পতন হয়েছে। সর্বশেষে, বিটকয়েনের দাম $118,900 এবং ইথেরিয়ামের দাম $4,300-এর কাছাকাছি।

সামনে ব্যস্ত একটি দিন…

RBA-এর সুদের হার কমানো এবং যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থানের ডেটার কারণে অস্থির শুরুর পর বাজারের নজর এখন জার্মানি ও ইউরোজোনের ZEW অর্থনৈতিক মনোভাবের প্রতিবেদনের দিকে, এরপর জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন CPI ও Core CPI ডেটা প্রকাশিত হবে। পাশাপাশি নজরে রয়েছে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (API) যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক তেলের মজুতসংক্রান্ত প্রতিবেদন।

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমার প্রত্যাশা মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে, তথ্য-উপাত্তে অপ্রত্যাশিত কিছু দেখা গেলে বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া হতে পারে। বিশেষ করে, ট্রাম্প সুদের হার কমানোর জন্য চাপ দিলেও ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েলসহ কয়েকজন কর্মকর্তা তথ্য-উপাত্তনির্ভর অবস্থানে অটল রয়েছেন। পণ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি কম থাকলে ফেডের ডোভিশ অবস্থান আরও জোরালো হতে পারে। বিশেষত, শুল্কের প্রভাব সীমিত থাকায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমার দিকে নজর যাওয়ায় এমনটা হতে পারে।

এই পরিস্থিতি ডলারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং সামগ্রিক বাজারের মনোভাব উন্নত করতে পারে। পরবর্তী দিকনির্দেশনার জন্য ট্রেডারদের ভূরাজনৈতিক খবরেও নজর রাখা উচিত—এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে অগ্রগতি এবং রাশিয়া, চীন, ইউক্রেন ও ইসরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনাও রয়েছে।

শীর্ষস্থানীয় অ্যাসেটগুলোর পূর্বাভাস

  • বুলিশ মুভের প্রত্যাশা: USDCAD, USDJPY
  • আরও দরপতনের সম্ভাবনা: USDCHF, সোনা
  • দর স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা: Nasdaq, DJI30, USDCNH, AUDUSD, NZDUSD, GBPUSD, মার্কিন ডলার, BTCUSD, ETHUSD, অপরিশোধিত তেল
  • ধীর ও ধাপে ধাপে দরপতনের সম্ভাবনা: DAX, FTSE 100, EURUSD

ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!