
কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর শুল্ক আরোপ এক মাসের জন্য স্থগিত হওয়ায় ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এর জেরে বুধবার মার্কিন ডলারের দরপতন হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মার্কিন ADP Employment Change এবং ফেডের “Beige Book”-এ অর্থনৈতিক মূল্যায়ন কমিয়ে আনা USD-এর ওপর নিম্নমুখী চাপ আরও বাড়িয়েছে। এতে শক্তিশালী ISM Services PMI ও Factory Orders-এর প্রভাবও ম্লান হয়েছে। এদিকে, CME-এর FedWatch টুলে জুনে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এখন 86% দেখানো হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল 70%। এতে ডলারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা এবং সরকার অচলাবস্থা এড়াতে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা মিশ্র ইঙ্গিত দিয়েছে, ফলে বৃহস্পতিবারের শুরুর দিকে আশাবাদ সীমিত ছিল। এর ফলে, টানা তিন দিন দরপতনের পর US Dollar Index (DXY) চার মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। EURUSD ও GBPUSD-এর দর বেড়ে নভেম্বর 2024-এর পর সর্বোচ্চ হয়েছে। AUDUSD ও NZDUSD টানা চার দিনের উত্থান ধরে রেখেছে, অন্যদিকে টানা তিন দিন দরপতনের পর USDCAD স্থিতিশীল হয়েছে।
অন্যদিকে, 22 মাসের সর্বনিম্ন থেকে ক্রুড অয়েলের দাম ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সোনার দাম সাপ্তাহিক সর্বোচ্চের কাছাকাছি রয়েছে, আর ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো টানা তৃতীয় দিনের মতো দৈনিক দরবৃদ্ধি দেখিয়েছে এবং সপ্তাহের জন্যও বাড়তি লাভের পথে রয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে শেয়ারবাজারও বেড়েছে।
মার্কিন ডলারের ব্যাপক দরপতন এবং জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নিয়ে আশাবাদ আজকের ECB-র সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে EURUSD-কে চার মাসের সর্বোচ্চ স্তরে তুলেছে। তবে ECB-র সুদের হার কমানোর বিষয়ে ডোভিশ প্রত্যাশা এবং বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও দরবৃদ্ধি সীমিত করছে। মার্কিন ডলার দুর্বল থাকলে ECB-র হকিশ সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্তে এই কারেন্সি পেয়ারের দরবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে Bank of England (BoE)-এর গভর্নর Andrew Bailey, প্রধান অর্থনীতিবিদ Huw Pill এবং নীতিনির্ধারক Megan Greene-এর মিশ্র বক্তব্য সাম্প্রতিক আশাব্যঞ্জক ব্রিটিশ তথ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে এবং চার মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে GBPUSD-এর বুলদের পরীক্ষা করছে। তবে দুর্বল US Dollar-এ ক্রেতারা টানা চতুর্থ দিনের লাভের ব্যাপারে আশাবাদী রয়েছেন।
এদিকে, জাপানের শীর্ষ মুদ্রাবিষয়ক কূটনীতিক আতসুশি মিমুরা বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন, যা USDJPY-তে চাপ সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার পাঁচ মাসের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরও এই পেয়ারটি হিমশিম খাচ্ছে। জাপানের হস্তক্ষেপ নিয়ে জল্পনা এবং BoJ-এর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা ট্রেডারদের সতর্ক রাখছে।
AUDUSD ও NZDUSD টানা চতুর্থ দিনের মতো বাড়ছে, আর USDCAD টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে। তবে চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ায় এই ঊর্ধ্বগতির গতি কমছে। RBA-র সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা, RBNZ-এর নেতৃত্বে আকস্মিক পরিবর্তন এবং BoC-এর নরম অবস্থানও অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ড ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এদিকে, কানাডার ওপর মার্কিন শুল্কের সম্ভাব্য তীব্র প্রভাব এবং কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য ক্রুড অয়েলের দুর্বল দাম USDCAD-এর পতন সীমিত রাখার অতিরিক্ত কারণ হিসেবে কাজ করছে।
US ডলার দুর্বল হওয়া এবং বাজারের আশাবাদ সত্ত্বেও WTI ক্রুড অয়েলের দাম 2023 সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এরপর বৃহস্পতিবার দামে সংশোধনমূলক উত্থান দেখা যায়। OPEC+–এর সম্ভাব্য সরবরাহ বৃদ্ধি এবং US-এ ক্রুড অয়েলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ায় চাপ বাড়ে। তবে সম্প্রতি পণ্যটি টানা চার দিনের দরপততি থামাতে পেরেছে।
বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় সোনার টানা চার দিনের দরবৃদ্ধি চললেও ঊর্ধ্বমুখী গতি জোরালো নয়। তবে দুর্বল মার্কিন ডলার এবং বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদা সোনার দামকে গত সপ্তাহের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার পথে রেখেছে।



White House Crypto Summit-এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর আশাবাদ, সামগ্রিক বাজারের ইতিবাচক মনোভাব এবং দুর্বল মার্কিন ডলারের সমর্থনে Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। তবে লং পজিশন লিকুইডেশন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধের আশঙ্কা আরও ঊর্ধ্বগতিকে সীমিত করছে।
বৃহস্পতিবারের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে ইউরোজোনের খুচরা বিক্রয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাঝারি-গুরুত্বের কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্য থাকলেও, ট্রেডারদের নজর থাকবে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) সম্ভাব্য 0.25% সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্তে। ECB প্রেসিডেন্ট লাগার্দের সম্ভাব্য ডোভিশ মন্তব্যের সঙ্গে মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য ঘুরে দাঁড়ানো EURUSD-এর সাম্প্রতিক র্যালিকে সীমিত করতে পারে। তবে, ECB যদি হকিশ অবস্থান নিয়ে সুদের হার কমায় এবং দুর্বল কর্মসংস্থান-তথ্য ও রিস্ক-অন মনোভাবের কারণে মার্কিন ডলার ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, তাহলে EURUSD 2024 সালের নভেম্বরের সর্বোচ্চ প্রায় 1.0940-এর দিকে এগোতে পারে।
এদিকে, মার্কিন ডলার ঘুরে দাঁড়ালে GBPUSD-তে বাধা আসতে পারে, আর USDJPY অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ড ডলারের সঙ্গে একই ধারায় স্থিতিশীল হতে পারে। ফলাফল যা-ই হোক, সোনা তার দরবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে, আর অপরিশোধিত তেলের দাম সাম্প্রতিক সর্বনিম্ন স্তরের দিকে নেমে যেতে পারে। হোয়াইট হাউস ক্রিপ্টো সামিটের আগে ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম বাড়তে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুল্ক-সংক্রান্ত নেতিবাচক খবর এলে শেয়ারবাজারে কিছুটা দরবৃদ্ধি কমে যেতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!