
বুধবারের শুরুতে বাজারের গতি কম, কারণ ট্রেডাররা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ “লিবারেশন ডে” শুল্ক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন। শুল্ক নিয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মিশ্র বক্তব্য এবং শুক্রবারের ননফার্ম পেরোলস (NFP) প্রতিবেদনের ইঙ্গিতবাহী মার্কিন ADP Employment Change রিপোর্টের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে। এ ছাড়া, ECB-র শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য বাজারের অনিশ্চয়তা আরও বাড়াচ্ছে।
দুর্বল PMI প্রতিবেদন, চাকরির সুযোগ এবং GDP পূর্বাভাসসহ সাম্প্রতিক মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য বাজারের মনোভাবকে চাপে ফেলেছে। ফেড কর্মকর্তারা স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেননি, তবে শুল্কের কারণে মন্দা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন। এদিকে, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে সহায়তার জন্য চীনের নতুন নির্দেশিকা এবং রাশিয়া ও ইরান নিয়ে নেতিবাচক খবর কমে যাওয়ায় বাজারে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা কিছুটা কমেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, টানা দুই দিন দৈনিক দর বাড়ার পর US Dollar Index (DXY) স্থির রয়েছে। অন্যদিকে, রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আগের দরপতন কাটিয়ে সোনার দাম আবার বাড়ছে।
EURUSD-এর ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে, আর GBPUSD এক মাস ধরে একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে ওঠানামা করছে। USDJPY, AUDUSD ও NZDUSD সামান্য বেড়েছে, অন্যদিকে সাম্প্রতিক তীব্র পতনের পর USDCAD স্থিতিশীল হচ্ছে। পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেমে আসার পর অপরিশোধিত তেল স্থিতিশীল রয়েছে, আর Bitcoin ও Ethereum-এর টানা দুই দিনের উত্থান থেমেছে। এর আগে পতনের পর শেয়ারবাজারে সামান্য উত্থান দেখা গেছে।
মার্কিন ডলারে জোরালো ঊর্ধ্বমুখী গতি না থাকলেও ফ্রান্সের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ইসিবির নীতিনির্ধারকদের নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিতবাহী মন্তব্যের কারণে EURUSD-তে চাপ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ধীরগতির মূল্যস্ফীতির কারণে ইউরোজোনে মন্দার আশঙ্কা আরও বেড়েছে, যা পেয়ারটিতেও চাপ দিচ্ছে।
অন্যদিকে, জাপান ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক থেকে সৃষ্ট বাণিজ্য ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় USDJPY আগের দিনের ক্ষতি পুষিয়ে উঠেছে। এ ছাড়া, জাপানের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মিশ্র তথ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা সামনে থাকায় বাজারের স্থিতিশীলতাও ইয়েন পেয়ারটিকে সমর্থন করছে।
GBPUSD সামান্য কমেছে এবং মঙ্গলবারের সংশোধনমূলক উত্থান থেকে ফিরে এসেছে। তবে এটি এক মাস ধরে চলা ট্রেডিং রেঞ্জের মধ্যেই রয়েছে। মিশ্র অর্থনৈতিক তথ্য এবং চলমান UK-US বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) Bank of England (BoE)-এর আশাবাদকে সমর্থন করার মতো কারণ দেখাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ ছাড়া, ব্রিটেনের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মন্দার আশঙ্কা মোকাবিলায় নতুন সরকারের সক্ষমতা নিয়ে সংশয়—বিশেষ করে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ Spring Budget-এর পর—স্টার্লিংয়ের গতিকে আরও দুর্বল করছে।
মঙ্গলবারের দরবৃদ্ধির ধারা বাড়িয়েছে AUDUSD ও NZDUSD। অন্যদিকে, দুর্বল ট্রেডিং দিনের পর USDCAD নিচের দিকেই রয়েছে। চীনের প্রণোদনা ঘোষণায় পণ্যনির্ভর কারেন্সিগুলো সুবিধা পাচ্ছে। এ ছাড়া, আজকের US শুল্কসংক্রান্ত হালনাগাদের অপেক্ষায় থাকা ট্রেডারদের প্রত্যাশা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রাকে সমর্থন দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিল্ডিং পারমিটের উন্নত তথ্য এবং RBA-এর সহকারী গভর্নর Christopher Kent-এর কড়া মুদ্রানীতির পক্ষে মন্তব্যেও AUDUSD শক্তি পেয়েছে। বিপরীতে, নিউজিল্যান্ডের বিল্ডিং পারমিটের দুর্বল তথ্য সতর্ক আশাবাদের মধ্যে NZDUSD-এর অগ্রগতিকে থামাতে পারেনি। এদিকে, এক মাসেরও বেশি সময়ের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসার পর অপরিশোধিত তেলের দাম স্থিতিশীল হওয়ায় USDCAD-এর নিম্নমুখী গতি ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। অপরিশোধিত তেল কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য। এর সঙ্গে US-কানাডার বাণিজ্য সম্পর্কের অবনতিও বাজারের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।



বাজারের অনিশ্চয়তা এবং দুর্বল মার্কিন ডলারের কারণে সোনার ক্রেতারা নতুন রেকর্ড সর্বোচ্চ দামের ব্যাপারে আশাবাদী রয়েছেন। যদিও এর আগের দিন ঊর্ধ্বমুখী চ্যানেলের মধ্যে চার মাস ধরে থাকা রেজিস্ট্যান্স লাইন থেকে দাম নেমেছিল। এশিয়া এবং প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো থেকে ভৌত সোনার চাহিদা জোরালো থাকবে—এমন প্রত্যাশাও মূল্যবান ধাতুটিকে সাপোর্ট দিচ্ছে।
এদিকে, 5 সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেমে আসার পর ক্রুড অয়েলের দাম চাপের মধ্যে রয়েছে। শিল্পখাতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাপ্তাহিক তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই চাপ আরও বেড়েছে। এ ছাড়া, এপ্রিল থেকে OPEC+ পরিকল্পনা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়াবে—এমন আশঙ্কা, উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ট্রাম্পের চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ সংকটের খবর কমে যাওয়া জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করছে। ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তেলের ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
“লিবারেশন ডে”-তে সতর্ক মনোভাবের পাশাপাশি স্টেবলকয়েন থেকে ইল্ড পাওয়ার বিরোধিতা করছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা—এমন খবরের মধ্যে বিটকয়েন (BTCUSD) ও ইথেরিয়াম (ETHUSD)-এর টানা দুই দিনের দরবৃদ্ধি থেমেছে। এদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো যুক্তরাজ্যের ট্রেড সংস্থাগুলোর সরকারকে ক্রিপ্টোকে “কৌশলগত অগ্রাধিকার” দেওয়ার অনুরোধসংক্রান্ত শিরোনামটি উপেক্ষা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump 20:00 GMT-এ শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন, তাই বাজারের নজর থাকবে তাঁর দিকেই। সম্প্রতি রিপাবলিকান নেতা বাণিজ্য নিয়ে নিজের অবস্থান কিছুটা নরম করেছেন এবং আলোচনার মাধ্যমে অনুকূল শর্ত পাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এটি নিশ্চিত হলে বাজারের আশাবাদ বাড়তে পারে, মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং স্বর্ণ, ক্রুড অয়েল ও পণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত মুদ্রাগুলোকে সমর্থন দিতে পারে। এদিকে, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য বা জাপানের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাণিজ্যিক ছাড়ের ব্যবস্থা না এলে EURUSD, GBPUSD ও USDJPY একটি সীমার মধ্যে ওঠানামা করতে পারে—যার সম্ভাবনা কম। এ ছাড়া, হোয়াইট হাউস শুল্ক নিয়ে নরম অবস্থান নিলে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে Trump কঠোর অবস্থান নিলে এগুলোর দাম দ্রুত পড়ে যেতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের ADP কর্মসংস্থান পরিবর্তন, সাপ্তাহিক তেলের মজুতের তথ্য এবং ECB প্রেসিডেন্ট Christine Lagarde, প্রধান অর্থনীতিবিদ Philip Lane ও নীতিনির্ধারক Olli Rehn-এর মন্তব্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও দিনের মধ্যে বাজারের ওঠানামায় প্রভাব ফেলবে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!