লগ আউট
Are you sure you want to exist?
MTrading Team • আজ

যুক্তরাষ্ট্রের NFP-এর দিকে নজর রেখে স্বর্ণের ঊর্ধ্বগতি আবার শুরু, লক্ষ্য নতুন রেকর্ড উচ্চতা

যুক্তরাষ্ট্রের NFP-এর দিকে নজর রেখে স্বর্ণের ঊর্ধ্বগতি আবার শুরু, লক্ষ্য নতুন রেকর্ড উচ্চতা

NFP প্রকাশের আগে উদ্বেগে বাজারের আত্মবিশ্বাস কমছে

শুক্রবারের শুরুতে বাজারে সতর্ক আশাবাদ দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের Nonfarm Payrolls (NFP) রিপোর্টের আগে স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকলেও, ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হার কমানোর আশাও ধরে রেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ কমে আসা, বৃহস্পতিবারের অর্থনৈতিক তথ্য থেকে স্বস্তি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও রাজনীতি থেকে পাওয়া মিশ্র সংকেত—এসব কারণে এই সতর্ক আশাবাদ বজায় রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে, Chicago Federal Reserve-এর প্রেসিডেন্ট Austan Goolsbee সতর্ক সুরে বলেছেন, Federal Open Market Committee (FOMC)-এর আসন্ন সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এখনও খোলা আছে। তবে তিনি এখনও সুদের হার কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি।

এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য চুক্তি এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশাবাদ বাজারের মনোভাবকে কিছুটা ইতিবাচক রাখতে সাহায্য করেছে। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয় এবং যুদ্ধও চলছে।

বৃহস্পতিবারের যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য-উপাত্তে ইঙ্গিত মিলেছে, অর্থনীতি ধীর হচ্ছে, তবে ভেঙে পড়ছে না। সপ্তাহের শুরুর দিকে ফেডারেল রিজার্ভের Beige Book এবং Job Openings and Labor Turnover Survey (JOLTS)-এর সতর্কবার্তার সঙ্গেও এটি মিলে যায়।

আগস্টের ISM Services Purchasing Managers Index (PMI)-এ সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এতে শক্তিশালী চাহিদার ইঙ্গিত না মিললেও, সুদের হার আরও কমানোর প্রত্যাশা জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে, শুক্রবারের NFP-এর আগাম সূচক হিসেবে বিবেচিত আগস্টের ADP Employment Change জুলাইয়ের সংশোধিত 106,000 থেকে তীব্রভাবে কমে 54,000-এ নেমেছে, যা প্রত্যাশিত 65,000-এরও নিচে।

আগের 62,075 থেকে Challenger-এর চাকরি ছাঁটাইয়ের সংখ্যা বেড়ে 85,979 হয়েছে। সাপ্তাহিক প্রাথমিক বেকারত্ব ভাতার দাবিও বেড়ে 237,000 হয়েছে, যা 230,000-এর পূর্বাভাস এবং আগের 229,000—দুটিকেই ছাড়িয়ে গেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইউনিট শ্রম ব্যয়ের বৃদ্ধি প্রত্যাশিত ও আগের 1.6 শতাংশ থেকে কমে 1.0 শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে, কৃষি-বহির্ভূত উৎপাদনশীলতা বেড়ে 3.3 শতাংশ হয়েছে, যা 2.4 শতাংশের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে।

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে 78.3 বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি প্রত্যাশিত 75.7 বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি এবং জুনের 60.2 বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

আগস্টে ISM Services PMI বেড়ে 52.0 হয়েছে, যা 51.0-এর পূর্বাভাস এবং জুলাইয়ের 50.1-এর চেয়ে বেশি। তবে S&P Global Composite PMI-এর চূড়ান্ত পাঠ এসেছে 54.6-এ, যা প্রাথমিক 55.4 অনুমানের চেয়ে কম।

ভূরাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বাজারের মনোভাবকে আরও জটিল করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দিনের শেষভাগে বলেন, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এটি সম্পন্ন করব।” তবে কোনো পক্ষই বিষয়টি নিশ্চিত করেনি বা ইতিবাচক সাড়া দেয়নি, আর যুদ্ধও চলছে—ফলে মন্তব্যটি কম বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে।

এদিকে, ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে বিদেশি সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনকেন্দ্র তৈরি না করলে তাদের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জাপানি গাড়ির ওপর শুল্ক 27.5 শতাংশ থেকে কমিয়ে 15 শতাংশ করার একটি নির্বাহী আদেশেও স্বাক্ষর করেছেন।

এছাড়া, Wall Street Journal জানিয়েছে যে United States, United States–Mexico–Canada Agreement (USMCA) নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর লাগতে পারে এবং কংগ্রেস ও জনসাধারণের অনুমোদনের একাধিক ধাপ পার হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে বৈশ্বিক বাণিজ্যের কাঠামো নতুন করে সাজানোর ট্রাম্পের কৌশল আরও জোরদার হচ্ছে।

শুল্ক কমানোর পর জাপানও নজর কেড়েছে। জাপানের প্রধান বাণিজ্য আলোচক Akazawa দেশটির বিনিয়োগ প্যাকেজ-সংক্রান্ত একটি Memorandum of Understanding (MOU) স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংশোধিত নির্বাহী আদেশে ওষুধ বা সেমিকন্ডাক্টরের ক্ষেত্রে সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের মর্যাদার কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবে ওই খাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে, জাপানের সর্বশেষ শ্রমবাজারের তথ্য Bank of Japan (BoJ)-এর সম্ভাব্য সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশাকে জোরদার করেছে।

জাপানে জুলাই মাসে নামমাত্র মজুরি বছরে 4.1% বেড়েছে। জুনের সংশোধিত 3.1% বৃদ্ধির তুলনায় এই হার বেশি এবং 3% পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। ডিসেম্বরের পর এটিই সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। প্রকৃত নগদ আয় সাত মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো বেড়েছে—প্রত্যাশিত 0.6% পতনের বিপরীতে বৃদ্ধি পেয়েছে 0.5%। শক্তিশালী মজুরি-তথ্য এবং দুর্বল মার্কিন ডলারের কারণে USDJPY-এর দর কমেছে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে মার্কিন গাড়ি আমদানি শুল্ক সর্বোচ্চ 15%-এ সীমাবদ্ধ করার পর জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের শেয়ারের দাম বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মনোভাব উন্নত করেছে।

ওয়াল স্ট্রিটে, Financial Times জানিয়েছে যে OpenAI, 2026 সালের মধ্যে নিজস্ব নকশার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ তৈরি করতে Broadcom-এর সঙ্গে কাজ করছে। Broadcom, Copart এবং Lululemon-এর শক্তিশালী আয় প্রতিবেদন বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। Nasdaq 0.98% এবং S&P 500 0.83% বেড়েছে—দুটিই টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, Dow Jones Industrial Average 0.77% বেড়ে টানা তিন দিনের পতনের ধারার অবসান ঘটিয়েছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে U.S. dollar ঘুরে দাঁড়ানোয় Bitcoin (BTC) ও Ethereum (ETH) চাপে পড়েছে, অন্যদিকে অন্যান্য altcoin-এ মিশ্র সংকেত দেখা গেছে। বন্ডের ইল্ড সামান্য কমেছে, আর রেকর্ড সর্বোচ্চ থেকে পিছিয়ে আসার পর সোনার দামে আবার ঊর্ধ্বমুখী গতি ফিরেছে। ক্রুড অয়েলের দামও চাপে রয়েছে।

মুদ্রাবাজারে, NFP প্রকাশের আগে সাধারণত যে দরপতন দেখা যায়, সেই প্রবণতায় U.S. Dollar Index (DXY) কমেছে। EURUSD ও GBPUSD সামান্য বেড়েছে, আর USDJPY কমেছে। এ ছাড়া, AUDUSD ও NZDUSD আগের দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছে, আর USDCAD-এর টানা চার দিনের দরবৃদ্ধি থেমেছে। দিনের ঘটনাপ্রবাহের পর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলো সামান্য বেড়েছে।

EURUSD ও GBPUSD-র সাপ্তাহিক লোকসান কমেছে, USDJPY পিছু হটেছে

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইউরোজোনের খুচরা বিক্রির পরিসংখ্যান প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল ছিল। এর ফলে শক্তিশালী মার্কিন ডলারের পাশাপাশি EURUSD-তে দরপতিতে আরও চাপ তৈরি হয়েছে। শুক্রবারের শুরুতে USD-এর ঊর্ধ্বগতি থামলে EURUSD সামান্য ঘুরে দাঁড়ালেও সামগ্রিক বাজার মনোভাব এখনও চাপে রয়েছে। ইউরোজোনের চলমান অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, মিশ্র অর্থনৈতিক তথ্য এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) সতর্ক অবস্থান এর প্রতিফলন। সুদের হার কমানো আপাতত স্থগিত রাখার দিকেই ব্যাংকটি ঝুঁকছে, পাশাপাশি পুরো জোটজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরছে।

শুক্রবারের শুরুতে GBPUSD-এর দামও সামান্য বেড়েছে। তবে এই পেয়ারটির নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে এবং টানা তৃতীয় সপ্তাহে পতনের পথে রয়েছে। যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রিতে সাম্প্রতিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও এমনটা হচ্ছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (BoE) কর্মকর্তারা বারবার যে বৃহত্তর অর্থনৈতিক উদ্বেগের কথা উল্লেখ করছেন, তার পাশাপাশি দেশীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণেও ব্রিটিশ পাউন্ড চাপে রয়েছে। সরকারের রাজস্ব প্যাকেজ সমালোচনার মুখে পড়েছে। সপ্তাহের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের বন্ডের ইল্ড কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে পরে কমে আসে—যা সম্ভাব্য মন্দা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য চুক্তি, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রকৃত ও নামমাত্র মজুরি বৃদ্ধি এবং জাপানের শক্তিশালী পারিবারিক ব্যয়ের ডেটা ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। এসব কারণের সঙ্গে জাপানি ইয়েনের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আকর্ষণ USDJPY-তে চাপ সৃষ্টি করেছে। তা সত্ত্বেও, এই কারেন্সি পেয়ার টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে লাভের পথে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সংশোধনমূলক উত্থান সত্ত্বেও অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ড ডলার দুর্বল রয়েছে

শুক্রবারের শুরুর দিকে AUDUSD ও NZDUSD বৃহস্পতিবারের লোকসান পুষিয়ে সাপ্তাহিক সর্বনিম্ন থেকে ঘুরে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, পাঁচটি সেশনের মধ্যে প্রথম দৈনিক দরবৃদ্ধি নথিভুক্ত করে USDCAD। তবে পণ্যনির্ভর তিন মুদ্রা—অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD), নিউজিল্যান্ড ডলার (NZD) এবং কানাডিয়ান ডলার (CAD)—সব কটিই সাপ্তাহিক লোকসানের পথে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক তথ্য কিছুটা ইতিবাচক এবং Bank of Canada (BoC) থেকে সম্প্রতি আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত এলেও কানাডিয়ান ডলারের দর কমছে। কানাডার অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য ক্রুড অয়েলের দাম কমায় মুদ্রাটির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য উত্তেজনা অব্যাহত থাকা এবং BoC-কে আরও সুদের হার কমাতে হতে পারে—এমন উদ্বেগও চাপ বাড়াচ্ছে।

নিউজিল্যান্ডে রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ড (RBNZ) ডোভিশ নীতির অবস্থান ধরে রেখেছে, যা NZD-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার (RBA) গভর্নরের মন্তব্যে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে আপাতত কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানো বন্ধ করতে পারে। এতে নিকট ভবিষ্যতে AUD-এর গতিপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ATH-এর দিকে সোনার উত্থান আবার শুরু

বৃহস্পতিবারের যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ডেটা, মার্কিন ডলারের শক্তি, সতর্ক আশাবাদী বাজার পরিস্থিতি এবং অতিরিক্ত কেনার অবস্থা—সব মিলিয়ে আট সেশনের মধ্যে সোনার প্রথম দৈনিক দরপতন ঘটায়। তবে শুক্রবারের শুরুতেই মূল্যবান ধাতুটির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আবার শুরু হয়। সপ্তাহের শুরুতে প্রায় $3,578-এ গড়া সর্বকালের সর্বোচ্চ দামের দিকে এটি আবার এগোচ্ছে। সোনার দামে এই সাময়িক একত্রীকরণ সম্ভবত আজকের যুক্তরাষ্ট্রের Nonfarm Payrolls প্রতিবেদনের আগে ট্রেডারদের পজিশন নেওয়া এবং চীনের অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও বৈশ্বিক সোনার চাহিদা নিয়ে খবরের সাময়িক বিরতির প্রতিফলন।

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

অপরিশোধিত তেলের দর দুর্বল, ক্রিপ্টোকারেন্সির দামে স্থিতি

টানা দুই দিনের পতনের পর ক্রুড অয়েলের দাম চাপে রয়েছে এবং দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা (OPEC) উৎপাদন বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা এবং যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (EIA) ও আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (API)—উভয়ের জানানো প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মজুত বৃদ্ধির কারণে এই পতন হয়েছে। চলমান বাণিজ্য ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং রাশিয়া ও গাজার মিশ্র পরিস্থিতিও দামের ওপর বাড়তি নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে। এই বিষয়গুলো তেল ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চাপ অব্যাহত রাখায়।

ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দের মন্তব্যের চাপে বিটকয়েন (BTC) ও ইথেরিয়াম (ETH)—দুটিই আগের দিন দরপতনের মধ্যে শেষ করেছে। লাগার্দে ক্রিপ্টো বাজারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় কঠোর নিয়ম চালুর পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে জাপানও, যা বাজারের সতর্ক মনোভাব আরও বাড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও, বিটকয়েন চার সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সাপ্তাহিক উত্থানের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, ইথেরিয়ামের টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে দরপতনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ ওঠানামা

  • দুই দিনের দরপতনের পর WTI ক্রুড অয়েলের দাম $63.40-এর আশেপাশে ওঠানামা করছে। আগের দিনের দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের কাছাকাছিও ঘোরাফেরা করছে এটি।
  • আগের দিন টানা 7 দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ভেঙে যাওয়ার পর সোনা আবার রেকর্ড সর্বোচ্চ দামের দিকে এগোচ্ছে। দিনের লেনদেনে 0.30% বেড়ে সর্বশেষ প্রায় $3,558-এ রয়েছে।
  • আগস্টের গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের আগে US Dollar Index (DXY) 98.10-এর কাছাকাছি চাপে থাকলেও টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে বৃদ্ধির লক্ষ্য রাখছে।
  • Wall Street লাভের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করেছে, আর U.S. স্টক ফিউচারও সামান্য বেড়েছে। এদিকে, এশিয়া-প্যাসিফিকের শেয়ারবাজারে সামান্য ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ইউরোপ ও ব্রিটেনের শেয়ারবাজারেও লেনদেনের শুরুর দিকে মাঝারি মাত্রায় দর বেড়েছে।
  • Bitcoin ও Ethereum—দুটিই সামান্য বেড়ে আগের দিনের লোকসান পুষিয়ে নিয়েছে। সর্বশেষে এগুলোর দাম যথাক্রমে $111,600 ও $4,340-এর কাছাকাছি।

যুক্তরাষ্ট্রের NFP-তে বড় দরপতন বা উত্থানের জন্য বাজার প্রস্তুত…

শুক্রবার আগস্টের U.S. Nonfarm Payrolls (NFP) প্রতিবেদন প্রকাশের আগে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় ট্রেডাররা সম্ভবত আপাতত বাজারের বাইরে থাকবেন। গত মাসের বিতর্কিত সংশোধনগুলোর পর এই সতর্কতা আরও বেড়েছে, কারণ সেগুলো সামগ্রিক শ্রমবাজারের পূর্বাভাস নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। বর্তমান পূর্বাভাসে বেকারত্বের হার সামান্য বাড়া, বেতনভুক্ত কর্মীর সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি এবং মজুরি বৃদ্ধির গতি কমার ইঙ্গিত রয়েছে। এই পূর্বাভাসগুলো সত্যি হলে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা জোরালো হতে পারে, যা US Dollar-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। দুর্বল USD-এর ফলে সোনার দাম আবার বাড়তে পারে এবং তা ধাতুটিকে সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায় ছাড়িয়ে $3,600-এর দিকে নিয়ে যেতে পারে। Fed আরও সহায়ক অবস্থান নিতে পারে—এমন আশা বাড়লে U.S. শেয়ারবাজারও লাভবান হতে পারে।

এদিকে, শুক্রবার প্রকাশিতব্য কানাডার কর্মসংস্থান প্রতিবেদনটি কানাডিয়ান ডলারকে উল্লেখযোগ্য সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা কম—এমনকি ফল আশাবাদী পূর্বাভাসের সঙ্গে মিললেও। তবে, মার্কিন তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হলে এবং USD শক্তিশালী হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD), কানাডিয়ান ডলার (CAD) ও নিউজিল্যান্ড ডলারের (NZD) মতো কমোডিটি-নির্ভর মুদ্রাগুলো স্থায়ী বাণিজ্য উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ঊর্ধ্বমুখী গতি পেতে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারে।

অপরিশোধিত তেলের দামও চাপে রয়েছে এবং USD দুর্বল হলেও উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম। এ সপ্তাহান্তে OPEC+ বৈঠকের আগে বাজার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে বড় কোনো কোম্পানির আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের কথা নেই। তাই ওয়াল স্ট্রিটের দিকনির্দেশনা মূলত আসন্ন সামষ্টিক অর্থনৈতিক তথ্যের ওপর নির্ভর করবে, বিশেষ করে শ্রমবাজারের পরিসংখ্যানের ওপর। ফলে বাজারে সতর্কতা রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকেত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশার কারণে সপ্তাহের শেষভাগে বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে।

শীর্ষস্থানীয় অ্যাসেটগুলোর পূর্বাভাস

  • বুলিশ মুভের প্রত্যাশা: USDCAD, USDJPY
  • আরও দরপতনের সম্ভাবনা: USDCHF, সোনা
  • দর স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা: Nasdaq, DJI30, USDCNH, AUDUSD, NZDUSD, GBPUSD, মার্কিন ডলার, BTCUSD, ETHUSD, অপরিশোধিত তেল
  • ধীর ও ধাপে ধাপে দরপতনের সম্ভাবনা: DAX, FTSE 100, EURUSD

ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!