
পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকার তৃতীয় পর্বে স্বাগতম। এই পর্বে নতুন ট্রেডারদের জন্য বাকি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে এবং আরও বিস্তারিতভাবে শেখার জন্য একটি দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
ভালো ট্রেডার হতে হলে শুধু বিস্তৃত জ্ঞান এবং মার্কেট বিশ্লেষণের দক্ষতাই যথেষ্ট নয়। সফল মানুষদের আচরণ কি কখনো খেয়াল করেছেন? তারা কখনো মেজাজ হারান না এবং কাজ করার আগে সব সময় দুবার ভাবেন। ট্রেডিং মনস্তত্ত্ব বুঝতে পারলে আপনার ট্রেডিং আরও ভালো হতে পারে। চাপের মুখেও কীভাবে শান্ত থাকবেন, মার্কেট ঘুরে যাওয়ার আগে কীভাবে ট্রেডে প্রবেশ বা বের হবেন—ক্ষতি সীমিত করা হোক বা লাভ তুলে নেওয়া—তা ভাবছেন? MTrading-এর পরামর্শ মেনে নিজের ট্রেডিং শৃঙ্খলা গড়ে তুলুন।
নতুন ট্রেডাররা কখনো কখনো ভাগ্যের ওপর ভরসা করে শুরুর দিকে সাফল্য পেতে পারেন, তবে সেই সৌভাগ্য সাধারণত বেশিদিন থাকে না। প্রযুক্তিতে দক্ষ ট্রেডাররা বলবেন, স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের ট্রেডিংয়ের জন্যই মার্কেট বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক চার্ট সব সময় হাতের কাছে রাখা উচিত। ফরেক্স বিশ্লেষণের নানা পদ্ধতি আছে, তবে বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলোকে তিনটি বড় ভাগে ভাগ করা যায়:

এই বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে বাস্তব জগতের এমন ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়, যেগুলো আপনার ট্রেড করতে যাওয়া ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্টের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন, খুচরা বিক্রির প্রতিবেদন প্রকাশের পর মার্কিন ডলারের দাম ওঠানামা করতে পারে। এর প্রভাব USD-যুক্ত সব কারেন্সি পেয়ারের দামের ওঠানামায় পড়তে পারে। এই অর্থনৈতিক সূচকগুলো ফরেক্স মার্কেটে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে:
অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশিত হওয়া বা ঘোষণা আসার পরপরই, নিচের তিনটি পরিস্থিতির যেকোনো একটি দেখা যেতে পারে:
সবচেয়ে সম্ভাব্য ফলাফল অনুমান করে সেই অনুযায়ী ট্রেড খোলাই হলো চ্যালেঞ্জ। সঠিক ট্রেডিং পদ্ধতিতে খবর পর্যালোচনা করা (আমাদের ফরেক্স ক্যালেন্ডার দেখুন) এবং অতীতে একই ধরনের অ্যাসেট বা ইন্সট্রুমেন্টে ওই খবরের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা—দুটিই অন্তর্ভুক্ত।



টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসে মূলত ট্রেডিং চার্টে কী ঘটছে, তা দেখা হয়। এতে সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্টের দামের ওঠানামা তুলে ধরা হয়, যাতে ট্রেডাররা দামের ওঠানামার ধরন শনাক্ত করে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনগুলো আবার দেখা যাবে—এই ধারণার ভিত্তিতে ট্রেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
জাপানি ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট হলো ট্রেডিং চার্টের একটি ধরন। এতে নির্দিষ্ট সময়ের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দাম দেখানো হয় (ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে ট্রেডার এই সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারেন):

উদাহরণস্বরূপ, কোনো জাপানি ক্যান্ডেলস্টিক যদি সময়সীমার সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি বন্ধ হয়, তার অর্থ ওই সময়ে কারেন্সি পেয়ারটির প্রতি আগ্রহ ছিল প্রবল। এমন ক্ষেত্রে সেই আগ্রহের সুযোগ নিতে ট্রেডারের লং ট্রেড খোলার সম্ভাবনা বেশি। চার্টের সামগ্রিক চিত্রে সাধারণ ধরনগুলো ফুটে ওঠে, যা ভবিষ্যতের দামের গতিবিধি অনুমান করে ট্রেড করতে সাহায্য করে। কোনো ধরন দেখা দিলে সেটি ফরেক্স ইন্ডিকেটর হয়ে ওঠে, কারণ এটি লাভজনক ট্রেডের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। আমাদের এই নিবন্ধে ফরেক্স ইন্ডিকেটর সম্পর্কে আরও জানুন: গুরুত্বপূর্ণ ফরেক্স ট্রেডিং ইন্ডিকেটর।
এলিয়ট ওয়েভ অ্যানালাইসিস নামেও পরিচিত ওয়েভ অ্যানালাইসিস একটি বহুল পরিচিত পদ্ধতি। এতে কোনো আর্থিক ইন্সট্রুমেন্টের প্রাইস চার্টে ধরন এবং দামের গতিপথ (ট্রেন্ড) খোঁজা হয়।
রালফ এলিয়টের তত্ত্ব ডাও জোন্সের তত্ত্বের মতো: দুটিই স্বীকার করে যে শেয়ারের দাম ঢেউয়ের মতো ওঠানামা করে।
বড় ট্রেন্ডের একই দিকে চলা ইমপালস ওয়েভের প্যাটার্নে সব সময় পাঁচটি ওয়েভ থাকে। কারেক্টিভ ওয়েভ মূল ট্রেন্ডের বিপরীত দিকে চলে। আরও ছোট পরিসরে, প্রতিটি ইমপালস ওয়েভের ভেতরেও আবার পাঁচটি ওয়েভ দেখা যায়।
নিচের চার্টটি দেখুন। এতে 1, 2, 3, 4, 5, A, B এবং C নামে চিহ্নিত মোট আটটি ওয়েভ রয়েছে (এর মধ্যে পাঁচটি সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী এবং তিনটি সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী)।

ওয়েভ 1-5 মিলে একটি ইমপালস গঠন করে, আর ওয়েভ A, B, C মিলে এর কারেকশন গঠন করে। ইমপালসটি পরের বৃহত্তর ডিগ্রিতে ওয়েভ 1 গঠন করে, আর তিন-ওয়েভের কারেকশনটি পরের বৃহত্তর ডিগ্রিতে ওয়েভ 2 গঠন করে।
ট্রেডিং কৌশল হলো এমন কিছু পদ্ধতি, যা ট্রেডাররা আর্থিক বাজারে কখন অ্যাসেট কিনবেন বা বিক্রি করবেন তা নির্ধারণ করতে ব্যবহার করেন। এই কৌশলগুলো টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস, ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস, ওয়েভ অ্যানালাইসিস, পরিমাণগত পদ্ধতি অথবা বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাপকাঠির সমন্বয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতে পারে।

এবার সবচেয়ে জনপ্রিয় ফরেক্স কৌশলগুলো দেখে নেওয়া যাক। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
এই ট্রেডিং কৌশলে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে (কয়েক সেকেন্ড বা ঘণ্টার মধ্যে) কারেন্সি পেয়ার কেনা-বেচা করা হয়। এই কৌশলে অনেক ছোট মুনাফা করা যায়, যা সময়ের সঙ্গে জমা হয়। আরও জানতে আমাদের নতুনদের জন্য ফরেক্স স্ক্যাল্পিং নিবন্ধটি পড়ুন।
ইন্ট্রাডে ট্রেডিংয়ে এক্সচেঞ্জ নির্ধারিত ট্রেডিং সময়ের মধ্যে একই দিনে শেয়ার কেনাবেচা করা হয়। দিনের মধ্যেই মুনাফা বুক করার উদ্দেশ্যে কৌশলগতভাবে বিপুল সংখ্যক শেয়ার কেনা ও বিক্রি করা হয়।
এই মধ্যমেয়াদি ট্রেডিং পদ্ধতিতে স্ক্যাল্পিং বা ইন্ট্রাডে ট্রেডিংয়ের তুলনায় দামের বড় ওঠানামার দিকে নজর দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের জন্য ট্রেড সেট করে পরে তা পরীক্ষা করা যায়; দিনের বেলায় সারাক্ষণ নজর রাখার দরকার হয় না।
এই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশলে বাজারে বিপরীতমুখী পজিশন নিয়ে সম্ভাব্য ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। ফরেক্সে একই কারেন্সি পেয়ারে দুটি বিপরীতমুখী পজিশন নিয়ে (যেমন, EUR/USD কারেন্সি পেয়ারে একটি লং ট্রেড ও একটি শর্ট ট্রেড খুলে) অথবা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটি কারেন্সিতে বিপরীতমুখী পজিশন নিয়ে এটি করা যায়।
এই কৌশলে প্রতিটি লোকসানের ট্রেডের পর ভবিষ্যতের ট্রেডে বিনিয়োগের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়, যাতে সফল ট্রেড হলেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়।
উদাহরণ হিসেবে, প্রথম ট্রেডে 2 USD বিনিয়োগ করে লোকসান হলে পরের ট্রেডে 4 USD, তারপর 8 USD, এরপর 16 USD—এভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। এটি ঝুঁকিপূর্ণ একটি কৌশল এবং নতুনদের জন্য উপযুক্ত নয়।
বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা থেকে মুনাফা করার জন্য buy stop ও sell stop অর্ডার ব্যবহার করা হয়। সাধারণত 10-পিপ ব্যবধানে অর্ডার দেওয়া হয়, যা ট্রেডিং কৌশলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর করতে সাহায্য করে।
আমাদের বিনামূল্যের ডেমো অ্যাকাউন্ট দিয়ে আপনার ট্রেডিং অভিজ্ঞতা আরও ভালো করুন:
আমরা ফরেক্স ট্রেডিংয়ের আলটিমেট গাইডের পার্ট 3 শেষ করছি। আপনি যেন ট্রেডিংকে গুরুত্বের সঙ্গে নেন, তা নিশ্চিত করতে চাই।

সবশেষে, আপনার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সফলভাবে ট্রেডিং করতে সাহায্য করবে—এমন কিছু পরামর্শ:
1. সব সময় নিজে গবেষণা করুন। আপনি যত কম জানবেন, ঝুঁকি তত বেশি। ফরেক্স ট্রেডিংয়ের ভিডিও দেখুন, শিক্ষামূলক নিবন্ধ ও টিউটোরিয়াল পড়ুন, ট্রেডিং সেমিনারে অংশ নিন এবং ফরেক্স ট্রেডিংয়ের ওয়েবিনারে যোগ দিন। এরপর, আপনি যে তথ্য পেয়েছেন তা বিশ্লেষণ করুন।
2. ডেমো অ্যাকাউন্টে পরীক্ষা করে দেখতে দ্বিধা করবেন না। নতুন কৌশলগুলো রপ্ত করার সময় ডেমো অ্যাকাউন্টে ভুল করলেও আপনার কোনো ক্ষতি হবে না। ফলাফল স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এবং আপনি যা পরীক্ষা করছেন, সে বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান।
3. বিষয়গুলোকে অযথা জটিল করবেন না। চার্টে অতিরিক্ত ইন্ডিকেটর যোগ করবেন না, আর কৌশলে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা সেটিংস রাখবেন না। ট্রেডিং কৌশল যত জটিল হবে, তা অনুসরণ করা তত কঠিন হবে এবং কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও তত কমবে। বিভিন্ন বাজারে কোনো কৌশল গড়ে কতটা ভালো কাজ করে, তা জানতে প্রয়োজনীয় ব্যাকটেস্টিং ও গবেষণা করুন। অল্প কয়েকটি টুল কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
4. অস্থির বাজারে ধীরস্থির থাকুন। অস্থিরতা ট্রেডিংকে সচল রাখে, আবার একই সঙ্গে তা নষ্টও করতে পারে। বাজারে প্রবেশ করার পর যেকোনো কিছু ঘটতে পারে—এটা মেনে নিতে হবে, আর তাতে আপনার কৌশল পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।
5. ট্রেন্ডই আপনার বন্ধু। আপনি নতুন ট্রেডার হোন বা প্রযুক্তিতে দক্ষ, কী ঘটতে পারে বলে মনে করছেন তার চেয়ে যা দেখছেন, সেটার ওপর আস্থা রাখাই ভালো।
6. ট্রেড খোলা ও বন্ধ—দুটোর দিকেই খেয়াল রাখুন। ট্রেড খোলার গুরুত্ব, তা বন্ধ করার গুরুত্বের সমান। বড় ক্ষতি এড়াতে আপনার ট্রেডিং কৌশলে ট্রেড বন্ধ করার পদ্ধতিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
7. সবকিছু লিখে রাখুন। একজন ব্যবসায়ীর মতো চিন্তাভাবনা করুন: পরিকল্পনা তৈরি করুন, নিয়মিত নজরদারি ও পর্যালোচনা নিশ্চিত করুন। ট্রেডিং জার্নাল শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।
8. প্রতিদিন ট্রেড খোলা বা বন্ধ করার কারণ, আপনার সাফল্য ও ভুল এবং আরও গবেষণার বিষয়গুলো সেখানে লিখে রাখুন। প্রতিটি ট্রেড—সফল হোক বা না হোক—জার্নালে নথিভুক্ত করতে ভুলবেন না। ভালো ট্রেডের বিশ্লেষণ আপনার ট্রেডিংয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং আরও এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেবে। খারাপ ট্রেডের বিশ্লেষণ আপনাকে উন্নতি করতে সাহায্য করবে। আরও জানতে আমাদের বইটি পড়ুন!
সঙ্গে থাকুন! আমাদের শিক্ষা বিভাগে আপডেট দেখুন।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।