কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দেশের মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী চাপ তৈরি হলে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করে এবং ফরেক্স ট্রেডিংকে প্রভাবিত করে। মূল উদ্দেশ্য হলো, দাম কোন দিকে যাচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে মুদ্রা কেনা বা বিক্রি করে তার মূল্য বাড়ানো বা কমানো।

এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কীভাবে আপনার ফরেক্স কৌশলগুলো প্রভাবিত করতে পারে, সেইসঙ্গে কেন এবং কখন এমন হস্তক্ষেপ হয়। ফরেক্স বাজারে হস্তক্ষেপের সময় কীভাবে আচরণ করতে হবে, সে বিষয়ে ট্রেডারদের কিছু পরামর্শও জানাব।
আগেই বলা হয়েছে, দেশের মুদ্রার ওপর স্পেকুলেটরদের চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর প্রধান হাতিয়ার হলো হস্তক্ষেপ। দাম বাড়তে থাকলে বা কমলে এমন হস্তক্ষেপ করা হয়। দাম বাড়লে অর্থনীতিতে গুরুতর কিছু নাও ঘটতে পারে। তবে মুদ্রার মূল্য কমে গেলে এর সম্ভাব্য পরিণতিগুলো হতে পারে:
মুদ্রার বিনিময় হারে দ্রুত পরিবর্তনের এগুলোই প্রধান নেতিবাচক দিক। তবে এগুলো মূলত পরিণতি। এর পেছনের কারণগুলো কী?



হস্তক্ষেপের কারণ বিভিন্ন হতে পারে। বিষয়টি সহজভাবে বোঝাতে বিশেষজ্ঞরা এগুলোকে কয়েকটি নির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করেন। সেগুলো হলো:
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া, 2005 থেকে 2012 সালের মধ্যে ঘটে যাওয়া আন্তর্জাতিক সংকটগুলোর সময় অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠান মনে করে, তাদের হস্তক্ষেপের কৌশল সফল হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হস্তক্ষেপের প্রভাব সাময়িক হতে পারে।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে হস্তক্ষেপ সাধারণত বিভিন্নভাবে করা হয়। এটি সরাসরি বা পরোক্ষ হতে পারে। প্রক্রিয়াটি কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে। নিচে হস্তক্ষেপের কয়েকটি প্রচলিত ধরন ও পদ্ধতি তুলে ধরা হলো।
| Intervention type | Intervention form |
|---|---|
| Verbal Intervention | Indirect |
| Operational Intervention | Direct |
| Concerted Intervention | Direct and indirect |
| Sterilized Intervention | Direct |
এবার প্রতিটি ধরন একটু বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া যাক
এটি “jawboning” নামেও পরিচিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা যখন দেশের মুদ্রার মূল্য বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে কথা বলার পরিকল্পনা করেন, তখন এ ধরনের হস্তক্ষেপ করা হয়। ফরেক্স বাজারে হস্তক্ষেপের প্রস্তাব বা হুমকি দেওয়ার মধ্য দিয়ে এর শুরু হয়।
কখনও কখনও, মুদ্রার মূল্য অতিমূল্যায়িত বা অবমূল্যায়িত—শুধু এ কথা ঘোষণা করাই যথেষ্ট। অর্থনীতি, সুদের হার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচকের ওপর বাস্তব ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলে হস্তক্ষেপ করার এটি সবচেয়ে সহজ ও কম খরচের উপায়গুলোর একটি। একই সঙ্গে, মৌখিক হস্তক্ষেপ বেশ কার্যকরও হতে পারে।
মৌখিক হস্তক্ষেপের বিপরীত হলো এটি। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু “কথা” না বলে, মুদ্রা কেনা বা বিক্রি করে।
সাধারণত, কয়েকটি দেশ একসঙ্গে কাজ করে এবং মুদ্রার ভবিষ্যৎ মূল্য কোন দিকে যাবে, তা সমন্বয় করে এ ধরনের হস্তক্ষেপ করে। অন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সাধারণত তাদের রিজার্ভ ব্যবহার করে অংশীদার দেশের পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে।
এর সাফল্য অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে রয়েছে অংশগ্রহণকারী অঞ্চল ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংখ্যা, হস্তক্ষেপের সামগ্রিক পরিসর বা পরিমাণ ইত্যাদি। সমন্বয়কারী দেশগুলো যখন শুধু মুদ্রার ভবিষ্যৎ মূল্য নিয়ে উদ্বেগ জানায়, তখন এই হস্তক্ষেপ মৌখিকও হতে পারে।
এ ধরনের হস্তক্ষেপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি সিকিউরিটিজে শর্ট পজিশন নিয়ে মুদ্রা বিক্রির প্রক্রিয়াকে স্টেরিলাইজ করে। এর ফলে অতিরিক্ত তহবিল আবার প্রচলনে ফিরিয়ে আনা যায়।
হস্তক্ষেপ শুধু বিনিময় হারই নয়, অন্যান্য বিষয়কেও প্রভাবিত করতে পারে। বিভিন্ন উপায়ে এই পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে পোর্টফোলিও-ভারসাম্য চ্যানেল, যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের কারণে ট্রেডাররা তাদের আর্থিক পোর্টফোলিওর ভারসাম্য নতুন করে ঠিক করেন। প্রত্যাশা চ্যানেল ভবিষ্যতে হস্তক্ষেপের নজির স্থাপনের ওপর নির্ভর করে। এর মাধ্যমে বিনিময় হারের সম্ভাব্য মাত্রা সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হতে পারে।
অর্ডার-ফ্লো চ্যানেল হলো ফরেক্স বাজারকে প্রভাবিত করার আরেকটি উপায়। এর ধারণাটি হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বাজারের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য থাকে। ফলে বাজারকে প্রভাবিত করার জন্য তাদের হাতে বেশি ক্ষমতা ও তথ্য থাকে।
ফরেক্স ট্রেডার হিসেবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের সময় বাড়তি সতর্কতা নিশ্চিত করতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা আপনার বিবেচনা করা উচিত। সবচেয়ে সহজ উপায় হলো স্টপ-লস অর্ডার সেট করা। বিশেষজ্ঞরা হস্তক্ষেপের বিপরীতে ট্রেড করার পরামর্শ দেন না। কারণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর একটি বিক্রির অর্ডার থেকেই একের পর এক স্টপ-লস অর্ডার সক্রিয় হতে পারে, যার ফলে বাজারে বড় গ্যাপ তৈরি হয়।
আপনি যদি ঝুঁকি নিয়ে বাজারের বিপরীতে ট্রেড করতে প্রস্তুত থাকেন, তাহলে স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতিতে সাধারণত যেখানটায় স্টপ-লস সেট করেন, তার চেয়ে আপনার পজিশনের কাছাকাছি সেট করুন। সাপোর্ট লেভেলগুলোর দিকে নজর রাখুন, কারণ মুদ্রার মূল্য বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সম্ভবত এই লেভেলগুলোই ব্যবহার করবে।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।