লগ আউট
Are you sure you want to exist?

ডিভিডেন্ড স্টক কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, লভ্যাংশ প্রদানকারী শেয়ার কী এবং এই শেয়ার থেকে কীভাবে মুনাফা করা যায়? অনেক ট্রেডার নিয়মিত আয়ের সন্ধান করেন। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর অংশ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির দেওয়া লভ্যাংশের মাধ্যমে তাঁরা সেই আয় পেতে পারেন। 

None

তবে লভ্যাংশ কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে? এই প্রবন্ধে লভ্যাংশ হিসাব করার কয়েকটি প্রচলিত পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। পাশাপাশি, সাধারণত কখন এবং কীভাবে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়া হয়, তাও জানব।  

লভ্যাংশ প্রদানকারী শেয়ার কী?

লভ্যাংশ প্রদানকারী শেয়ার সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত। কোনো কোম্পানি তার নিট মুনাফার একটি অংশ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিলে এ ধরনের লভ্যাংশ দেওয়া হয়, যা কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। নিট মুনাফার একটি অংশ পাওয়া বিনিয়োগকারীরা শেয়ারহোল্ডার হন এবং নগদ আকারে নিয়মিত লভ্যাংশ পান। বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় কোম্পানিগুলো নিয়মিত নতুন শেয়ার ইস্যু করে, যা শেয়ারের দাম বাড়ার পাশাপাশি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই এ ধরনের শেয়ার আয়ের একটি স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি উৎস হতে পারে।

অবশ্যই, যেকোনো কোম্পানি খুঁজে তার শেয়ারে বিনিয়োগ করলেই হবে না। এমন প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা সব শেয়ারহোল্ডারকে মুনাফার অংশ দিতে সক্ষম। সাধারণত প্রতি ত্রৈমাসিকে (বছরে 4 বার), ছয় মাসে একবার, বছরে একবার, প্রতি মাসে বা অন্য কোনো সময়সূচিতে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়া হয়। “অনিয়মিত” ধরনের লভ্যাংশ বেছে নিলে ভিন্ন সময়সূচিও হতে পারে।

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

লভ্যাংশ প্রদানকারী শেয়ার কীভাবে কাজ করে

লভ্যাংশ প্রদানকারী শেয়ার কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে, এমন একটি কোম্পানির কথা ভাবুন, যার হাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে। এ পর্যায়ে পরিচালনা পর্ষদের সামনে প্রধানত দুটি বিকল্প থাকে:

  1. ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য সেই অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করা;
  2. লভ্যাংশ হিসেবে সেই অর্থ শেয়ারহোল্ডারদের দেওয়া।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, পরিচালনা পর্ষদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেয়ার ইস্যু ও লভ্যাংশ বিতরণের তারিখ ঘোষণা করবে।

উদাহরণ: ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদনে মুনাফা বাড়তে দেখে কোম্পানিটি খুশি হয়। পরিচালনা পর্ষদ 1 মে লভ্যাংশ দেওয়ার অনুমোদন দেয়। তাই, যোগ্য বিনিয়োগকারীরা যেন আসন্ন লভ্যাংশ সম্পর্কে জানতে পারেন, সে জন্য কোম্পানির প্রতিনিধিরা আগেভাগে সংশ্লিষ্ট ঘোষণা দেন। লভ্যাংশ দেওয়ার দিন এলে শেয়ারহোল্ডাররা তাঁদের ব্যালান্স বা অ্যাকাউন্টে লভ্যাংশ দেখতে পাবেন।  

যেসব ধরনের শেয়ার থেকে লভ্যাংশ পাওয়া যায়

বিনিয়োগকারীদের বোঝার সুবিধার জন্য আমরা সব ধরনের শেয়ারকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছি। প্রথম ভাগে রয়েছে গ্রোথ স্টক। এগুলো মূলত ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতে পুনরায় বিনিয়োগের জন্য আয় ধরে রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে, ভ্যালু স্টক সাধারণত অধিক নির্ভরযোগ্য ও পরিণত প্রতিষ্ঠান ইস্যু করে, যেগুলো ইতিমধ্যে প্রবৃদ্ধির শীর্ষে পৌঁছেছে।

দ্বিতীয় ধরনের শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। কারণ, ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ইতিমধ্যে শীর্ষে পৌঁছেছে বলে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের আর পুনরায় বিনিয়োগের জন্য তেমন বেশি অর্থের প্রয়োজন হয় না। তাই পরিচালনা পর্ষদের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে নিট মুনাফা বণ্টন করাই বেশি কার্যকর হবে।

বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনার কাজ হলো সঠিক শেয়ার খাত বেছে নেওয়া। বিবেচনা করার মতো কয়েকটি প্রচলিত খাত হলো:

  • জ্বালানি খাত—প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
  • ইউটিলিটি খাত—পানি, তাপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
  • টেলিযোগাযোগ—ওয়্যারলেস ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
  • বাণিজ্যিক ও আবাসিক সম্পত্তির প্রতিনিধিদের নিয়ে রিয়েল এস্টেট।
  • খাদ্য, পানীয়, অ্যালকোহল, তামাক ও গৃহস্থালি পণ্যের সরবরাহকারীদের নিয়ে ভোক্তা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খাত।

শেয়ারের ডিভিডেন্ড কখন পাবেন

প্রতিটি ডিভিডেন্ডের জন্য একটি নির্দিষ্ট পেমেন্টের তারিখ থাকে। সাধারণত কোম্পানি এই তারিখ নির্ধারণ করে জানিয়ে দেয়। তবে কেবল যোগ্য শেয়ারহোল্ডাররাই ডিভিডেন্ড পেতে পারেন। অর্থাৎ, ডিভিডেন্ড পেতে হলে আপনাকে “এক্স-ডিভিডেন্ড তারিখ” পর্যন্ত শেয়ার ধরে রাখতে হবে। কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি:

  • ঘোষণার তারিখ হলো সেই দিন, যেদিন পরিচালনা পর্ষদ ডিভিডেন্ড অনুমোদন করে এবং কোম্পানির প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করেন।
  • এক্স-ডিভিডেন্ড তারিখ হলো যেদিন ডিভিডেন্ড পাওয়ার অধিকার শেষ হয়। অর্থাৎ, আপনি যদি ওই দিন শেয়ার কেনেন, তাহলে তা থেকে কখনোই লাভ হবে না।
  • রেকর্ড তারিখ হলো সেই দিন, যেদিন সব যোগ্য বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়। তালিকায় আপনার নাম না থাকলে আপনি ডিভিডেন্ড পাবেন না।
  • পেমেন্টের তারিখ হলো যেদিন যোগ্য বিনিয়োগকারীরা ডিভিডেন্ডের অর্থ পান।

ডিভিডেন্ড দেয় এমন শেয়ারকে দীর্ঘমেয়াদে আয় তৈরির সহজ ও নিরাপদ উপায় বলে মনে হতে পারে। তবে এই ধরনের প্যাসিভ ইনকামেরও নির্দিষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। কোম্পানি ব্যবসা বাড়াতে পুনর্বিনিয়োগ না করে ডিভিডেন্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে, পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা তার জন্য খুব কঠিন হতে পারে। কোনো সমস্যা হলে কোম্পানির আয় কমে যেতে পারে এবং শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ডও কমতে পারে। তাই একসময় আপনি ডিভিডেন্ড দেয় এমন শেয়ার বিক্রি করতে চাইতে পারেন।

এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।