
নিচের নিবন্ধে নতুন ট্রেডাররা অর্থনৈতিক সূচক কী, ট্রেডিংয়ে এগুলো কেন কাজে লাগে এবং কোন সূচকগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এসব বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন। বাজারে প্রবেশ করার পর থেকেই কোন সূচকগুলো ব্যবহার করা বা বিবেচনা করা উচিত, সে বিষয়েও জানতে পারবেন।
অর্থনৈতিক সূচক হলো এমন কিছু টুল, যা কোনো দেশের অর্থনীতি মূল্যায়নের পদ্ধতি ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসে ব্যবহার করা হয়। অর্থনৈতিক সূচকের অনেক ধরন রয়েছে। কিছু সূচক নির্দিষ্ট দেশের জন্য প্রযোজ্য—সেগুলো ওই দেশ যে পণ্য ও পরিষেবা উৎপাদন করে, তার ওপর নির্ভরশীল।
পেশাদার ট্রেডারদের হাতে কয়েকটির বেশি সূচক অনুসরণ করার সময় না থাকলে, তারা মৌলিক ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসে ব্যবহৃত তিনটি প্রধান সূচকের ওপর মনোযোগ দিতে পারেন। এতে অন্তত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
মৌলিক পর্যায়ে কোনো দেশের অর্থনীতি মূল্যায়নে ব্যবহৃত তিনটি প্রধান অর্থনৈতিক সূচক হলো:
সাধারণভাবে, অর্থনৈতিক সূচক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি দেশের বর্তমান ‘অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য’ বুঝতে ও পরিমাপ করতে এগুলোকে টুল হিসেবে ব্যবহার করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো দেশের মুদ্রানীতি তৈরি করে। পাশাপাশি, তারা দেশের সুদের হার ও মুদ্রার দায়িত্বে থাকে এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। প্রচলিত মুদ্রার পরিমাণও তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
তাই ট্রেডারদের জন্য অর্থনৈতিক সূচক গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো থেকে ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি কোন দিকে এগোতে পারে, তা বোঝা যায়। পাশাপাশি, কোনো ট্রেডার কোন খাতে বিনিয়োগের কথা বিবেচনা করতে পারেন, সে বিষয়েও ধারণা পাওয়া যায়।



মুদ্রানীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে প্রায়ই বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে। তখন অনেক ট্রেডার হয় বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করতে ছুটে যান, নয়তো সরে এসে নিজেদের বিনিয়োগ সুরক্ষিত করার চেষ্টা করেন।
CPI হলো এমন একটি অর্থনৈতিক সূচক, যা কোনো অর্থনীতিতে উৎপাদিত পণ্য ও পরিষেবার গড় দামের পরিবর্তন পরিমাপ করে। উদাহরণস্বরূপ, এক বছর আগের তুলনায় এখন গড় পণ্যের ঝুড়ির দাম কত, সে সম্পর্কে CPI ধারণা দিতে পারে।
এটি তুলনার একটি ভিত্তি দেয় এবং পণ্য ও পরিষেবার দামে মুদ্রাস্ফীতি নাকি মুদ্রাসংকোচন ঘটছে, তা নির্দেশ করে। CPI-কে কখনো কখনো ‘জীবনযাত্রার ব্যয়’ বলা হয়। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপের পদ্ধতি হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।
CPI-এর পরিসংখ্যান পেশাদার ট্রেডারদের নানা ধরনের তথ্য দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে তাদের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে দিকনির্দেশনা দিতে পারে। বিশেষ করে, মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যহ্রাস নির্দিষ্ট সময়ে কোন অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করা সবচেয়ে ভালো, তা নির্দেশ করতে পারে।
GDP হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশে উৎপাদিত পণ্য ও পরিষেবার মোট মূল্য। এই অর্থনৈতিক সূচকটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি অর্থনীতি কীভাবে কাজ করছে, তার স্পষ্ট ধারণা দেয়।
GDP-এর মোট অঙ্ক হিসাব করতে সরকারি ব্যয়, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ, নিট রপ্তানি এবং বেসরকারি ভোগ (অর্থাৎ ভোক্তাদের ব্যয়) একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, GDP-এর প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক—বিশেষ করে বিনিয়োগকারী ও ট্রেডারদের জন্য। তবে প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে হওয়াই আদর্শ। কোনো নির্দিষ্ট দিকে এই অঙ্ক হঠাৎ অনেক বেড়ে গেলে তা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এ ছাড়া, ‘Real GDP’ পরিসংখ্যানের মাধ্যমে ট্রেডার ও অর্থনীতিবিদেরা হিসাবের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি অন্তর্ভুক্ত করে অর্থনীতির কার্যকারিতা পরিমাপ করতে পারেন। এতে ট্রেডিং বা মুদ্রানীতি নিয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে আরও নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য হিসাব পাওয়া যায়।
বেকারত্ব বলতে একটি অর্থনীতিতে বেকার মানুষের হারকে শতাংশ হিসেবে বোঝায়। বেকারত্বের হার কম হলে সাধারণত ধরে নেওয়া যায় যে সরকার এমন কার্যকর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা চাকরির বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে—যেমন বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ কোর্স দেওয়া বা চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে মানুষকে সহায়তা করা।
এ ছাড়া, কোনো অর্থনীতিতে বিনিয়োগের পরিমাণও বেকারত্বের হারকে প্রভাবিত করতে পারে। যেমন, কোনো বিদেশি ব্যবসা দেশে এসে কর্মসংস্থান তৈরি করতে শুরু করলে।
একইভাবে, আগে উল্লেখ করা বিষয়গুলোর অভাব বেকারত্বের এই হারকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এই হার অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, বেকারত্বের হার বেশি হলে মানুষ সম্ভবত সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, এমনকি কেউ কেউ গৃহহীনও হতে পারে। ফলে ভোক্তাদের ব্যয় কমে যেতে পারে, কারণ অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে ব্যয় করার এবং কার্যত অর্থকে আবার অর্থনীতিতে প্রবাহিত করার মতো মানুষের সংখ্যা কমে যায়।
একইভাবে, সরকারি ভাতা সাধারণত সরকারি বাজেট বা করদাতাদের অর্থ থেকে দেওয়া হয়। তাই অনেক বেশি মানুষ ভাতা দাবি করলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে: বেশি মানুষ অর্থ পাচ্ছে, অথচ কম মানুষ তা ব্যয় করছে, কারণ তারা চাকরি থেকে আয় করছে না।
ফরেক্স ক্যালেন্ডার বা অর্থনৈতিক তথ্যের ক্যালেন্ডারে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের তারিখগুলো থাকে। এসব ক্যালেন্ডারে প্রকাশের সময়, সংশ্লিষ্ট মুদ্রা ও ঘটনা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, প্রকাশিত পরিসংখ্যান কেমন হতে পারে—ইতিবাচক না নেতিবাচক—সে বিষয়ে বাজারের মনোভাবের পরিসংখ্যানও থাকে।
ট্রেডারদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য টুল, কারণ এতে তাদের বিনিয়োগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়।
NFP পরিসংখ্যান একটি অর্থনীতিতে নতুন চাকরির সংখ্যা পরিমাপ করে। এতে কৃষি খাতের কর্মী, সরকারি কর্মচারী, ব্যক্তিগত গৃহের কর্মী এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার NFP-এর পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। ফরেক্স ট্রেডারদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। কারণ, ঐতিহাসিকভাবে এবং সাধারণত এই পরিসংখ্যানে বড় পরিবর্তন GDP-এর পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঘটে। NFP-এর তথ্য আরও নিয়মিত প্রকাশিত হয় বলে, চূড়ান্ত GDP পরিসংখ্যান প্রকাশের আগেই GDP-এর সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে এটি একটি প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে।
IPI যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত উপকরণের সামগ্রিক উৎপাদনের পরিমাণ পরিমাপ করে। এই সূচকে উৎপাদনশিল্প, গ্যাস পরিষেবা, খনি এবং বিদ্যুৎ খাতের পরিসংখ্যান অন্তর্ভুক্ত থাকে। পণ্য উৎপাদনের ভিত্তিতে অর্থনীতির অবস্থা বোঝায় বলে ট্রেডাররা সাধারণত এই অর্থনৈতিক সূচকটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। GDP-এর পরিসংখ্যান কোন দিকে যেতে পারে, তার পূর্বাভাস পেতেও এটি আরেকটি নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
এই অর্থনৈতিক সূচকটি এর সরকারি প্রতিবেদনের নাম অনুযায়ী ‘খুচরা বাণিজ্যের অগ্রিম মাসিক বিক্রি’ নামেও পরিচিত। চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব হিসাব করা হয় না। তবে মাসে মাসে খুচরা বিক্রির শতকরা পরিবর্তনের একটি সরল পরিমাপ এটি দেয়।
খুচরা বিক্রি বাড়লে সাধারণত বোঝা যায়, অর্থনীতি ‘সুস্থ’ রয়েছে এবং ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে।
আজ অর্জিত জ্ঞান নিয়ে আপনি যদি আর্থিক বাজারে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত মনে করেন, অথবা লাইভ মার্কেটে যাওয়ার আগে কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, তাহলে MTrading-এ একটি ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলে তা করতে পারেন।
MTrading পেশাদার ট্রেডারদের MetaTrader 4 প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয়। পাশাপাশি, বিনামূল্যে ডেমো অ্যাকাউন্টও খোলা যায়। এতে ট্রেডিং কৌশল অনুশীলন করা এবং বাস্তবে ট্রেড করার অভিজ্ঞতা অনুকরণ করা যায়। MT4 ডাউনলোড করাও বিনামূল্যে। নিশ্চিত না হলে, আপনি ওয়েব সংস্করণে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
এছাড়াও, আপনি ভার্চুয়াল ফান্ড ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম ট্রেডিং তথ্য পান, ফলে আপনার মূলধন ঝুঁকিতে পড়ে না। লাইভ মার্কেটে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলে, লাইভ ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলে বাস্তবে ট্রেডিং শুরু করতে পারেন।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।