লগ আউট
Are you sure you want to exist?

বিনিয়োগ বনাম ট্রেডিং: কোনটি বেছে নেবেন?

শেয়ার ট্রেডাররা অর্থ উপার্জনের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। মোটের ওপর, তাঁদের সব পদ্ধতিকে দুটি প্রধান ভাগে ফেলা যায়: ট্রেডিং ও বিনিয়োগ। আধুনিক আর্থিক জগতে এই দুটি পদ্ধতির পার্থক্য প্রায় মুছে গেছে।

None

শুরুতে, বিনিয়োগ ও ট্রেডিং একই লক্ষ্য অর্জনের দুটি ভিন্ন পদ্ধতি। সময়সীমা ও মানসিকতা—এই দুটি বিষয়ের কারণে পদ্ধতি দুটিতে পার্থক্য দেখা যায়। “সময়সীমা” বলতে আপনি কত সময় ধরে কোনো পজিশন ধরে রাখতে চান, তা বোঝায়।

মানসিকতা আপনার ট্রেডিং ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরে। আপনি কি দ্রুত মুনাফা করতে চান, নাকি দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভের আশায় পজিশন দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পছন্দ করেন?

এই প্রবন্ধে বিনিয়োগ ও শেয়ার ট্রেডিংয়ের মূল পার্থক্য এবং বিনিয়োগকে শেয়ার ট্রেডিং থেকে আলাদা করে এমন মানদণ্ডগুলো তুলে ধরা হবে।

বিনিয়োগ ও ট্রেডিংয়ের পার্থক্য

প্রতিটি ট্রেডিং স্টাইলের নির্দিষ্ট কিছু চাহিদা রয়েছে। যেমন, ট্রেডিং সাধারণত সক্রিয়ভাবে কাজ করে অর্থ উপার্জনের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, বিনিয়োগ হলো অপেক্ষা করে সম্পদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া। বিষয়টি সহজে বোঝাতে, দুটি ধারণার মধ্যে পার্থক্যগুলো একে একে তুলে ধরা হবে।

শেয়ারে বিনিয়োগ

স্টকে বিনিয়োগ করলে আপনার মানসিকতা দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে। সহজ কথায়, যথেষ্ট রিটার্ন না পাওয়া পর্যন্ত যত দিন প্রয়োজন, অপেক্ষা করার জন্য আপনি কোনো সম্পদ কেনেন। বিনিয়োগকারীরা সাধারণত যা করেন:

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন
  • সামান্যতম দামের পরিবর্তন হলেই বিক্রি করার ইচ্ছা না রেখে, তারা সম্পদের মালিকের মতো সেগুলো ধরে রাখে।
  • সম্পদের মূল্যায়নে বিনিয়োগকারীরা ব্যবসার কার্যকারিতাকে মৌলিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করেন। এর অর্থ, পণ্য, প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা, একই নিশের প্রতিদ্বন্দ্বীসহ অন্যান্য দিক বিবেচনা করে ব্যবসাটিকে একটি ব্যবসা হিসেবেই দেখা।
  • দৈনিক ওঠানামা গুরুত্বপূর্ণ নয়। স্বল্পমেয়াদি সময়সীমার ওপর নির্ভর না করায়, বাজারে প্রতিদিনের অস্থিরতা দেখা দিলেও, বিনিয়োগকারীরা শান্ত থাকেন। তারা কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও প্রধান লক্ষ্যগুলোর ওপর নির্ভর করেন। পরিকল্পনা মেনে চলতে শৃঙ্খলা ও ধৈর্য দরকার, বিশেষ করে বাজার ধসে পড়ার সময়।
  • শেয়ারের দাম কমে গেলে অনেক কম দামে আরও সম্পদ কেনার সুযোগ তৈরি হয়।
  • বিনিয়োগের প্রক্রিয়া শৃঙ্খলা ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে। আগের দিন লাভ হয়েছে বলেই বিনিয়োগকারীরা সম্পদ কেনাবেচা করেন না।

একজন বিনিয়োগকারী হলেন এমন ব্যক্তি, যাঁর চিন্তাভাবনা দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াগুলো সুপরিকল্পিত। সব নতুন বিনিয়োগকারী এর জন্য প্রস্তুত থাকেন না। এ ছাড়া, ট্রেড করার মতো অনেক আর্থিক বাজার ও সম্পদ থাকায়, বড় অঙ্কের মুনাফা করার দ্রুত ও কম পরিশ্রমসাধ্য উপায়ও খুঁজে পাওয়া যায়—তবে সেগুলোতে ঝুঁকি অনেক বেশি।

শেয়ার ট্রেডিং

শেয়ার ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে, মূল লক্ষ্য থাকে স্বল্পমেয়াদে মুনাফার সুযোগ খোঁজা। শেয়ার ট্রেডাররা কোম্পানির কার্যকারিতা বা মৌলিক তথ্য নিয়ে খুব একটা ভাবেন না। তাঁরা মূলত টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস, দামের ওঠানামা, ট্রেন্ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করেন। এসবের সাহায্যে তাঁরা স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাস দেন এবং বাজারে প্রবেশ ও প্রস্থানের সেরা অবস্থান নির্ধারণ করেন।

শেয়ার ট্রেডিং হলো একটি সক্রিয় পদ্ধতি, যেখানে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা অল্প সময়ের মধ্যে অনেক সম্পদ কেনাবেচা করেন। এই পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • ট্রেডাররা কোম্পানি বা সেটির কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষ আগ্রহী নন। তাঁদের মূল নজর থাকে শেয়ারের দামের দিকে। শেয়ার ট্রেডাররা অন্তর্নিহিত সম্পদ থেকে কতটা অর্থ উপার্জন করতে পারবেন, সেটিতে মনোযোগ দেন।
  • কৌশলটিতে বাজারের মনোভাব এবং শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি নিয়ে অন্যান্য ট্রেডারের মতামত বিবেচনা করা হয়।
  • ট্রেডাররা সম্পদের দামের ওঠানামা অনুসরণ করতে এবং লং বা শর্ট পজিশনে বাজারে প্রবেশের সেরা সময় অনুমান করতে টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর ও চার্ট ব্যবহার করেন।
  • শেয়ার ট্রেডারদের আচরণ মৌলিক ব্যবসায়িক বিষয়ের চেয়ে শেয়ারের দামের দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। তাই তাঁরা সাধারণত এমন ইন্সট্রুমেন্ট খোঁজেন, যেগুলোর দাম বাড়তে পারে।
  • ধরে রাখার সময়কাল খুবই কম—সাধারণত 1 দিনের বেশি নয়।
  • শেয়ার ট্রেডারদেরও একটি পরিকল্পনা থাকে। তবে বিনিয়োগের পরিকল্পনার তুলনায় এটি আরও জটিল। কেনা বা বেচার সিদ্ধান্ত নিতে তাঁরা অনেক ভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেন।

শেয়ার ট্রেডাররা খুব সক্রিয় থাকেন এবং স্বল্পমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ট্রেড করেন। ব্যবসাটির বদলে তাঁরা বাজার, ট্রেন্ড ও দাম বিশ্লেষণ করেন। যত দ্রুত মুনাফা করা যায়, ততই ভালো।

শেয়ার ট্রেডিং, নাকি বিনিয়োগ: কোনটি ভালো?

দুটি পদ্ধতির মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। তবে বিনিয়োগের লক্ষ্য বেশি থাকে নিষ্ক্রিয় আয়ের দিকে, আর ট্রেডিং বেশি উপযোগী সক্রিয় বাজার অংশগ্রহণকারীদের জন্য।

শেয়ারে বিনিয়োগ করলে সাধারণত আপনি বাই-অ্যান্ড-হোল্ড কৌশল পছন্দ করেন, যা অন্তর্নিহিত কোম্পানির মৌলিক কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে। এর থেকে পাওয়া তথ্য বেশি রিটার্ন পেতে সাহায্য করতে পারে। তবে সমস্যা হলো, রিটার্ন খুব কমই 10% ছাড়ায়।

স্টক ট্রেডিংয়ে আরও নমনীয় বিকল্প রয়েছে। সময়সীমা বা লক্ষ্য অনুযায়ী বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করতে নানা ধরনের ইন্ডিকেটর ব্যবহার করা যায়। এখানে মূল লক্ষ্য হলো সেরা ট্রেডিংয়ের সুযোগটি কাজে লাগানো এবং যেসব অ্যাসেটের দাম কমছে সেগুলো এড়িয়ে চলা।

সারসংক্ষেপ

ট্রেডার ও বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়িক লক্ষ্য এবং সেগুলো অর্জনের উপায় আলাদা। আপনার প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই পদ্ধতি বেছে নেওয়ার আগে ডেমো মোডে দুটি কৌশলই পরীক্ষা করে দেখা ভালো। এ ছাড়া, ট্রেডিংয়ের লক্ষ্য এবং আপনি যে মুনাফা অর্জন করতে চান, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন। এই পরিকল্পনায় সাধারণত সময়সীমা এবং প্রতিদিনের ট্রেড শুরু করার উপায় অন্তর্ভুক্ত থাকে।

আপনি যদি প্রতিদিন স্টক মার্কেটে সক্রিয় থাকতে না চান এবং তার বদলে প্যাসিভ আয়ের পথ খুঁজে থাকেন, তাহলে বিনিয়োগ বেছে নিতে পারেন। অন্যদিকে, আপনি যদি বাজারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে এবং মুনাফার সামান্যতম সুযোগও কাজে লাগাতে চান, তাহলে ট্রেডিং আপনার জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে।

এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।