কমোডিটি ট্রেডিংয়ে নতুনদের ক্রুড অয়েলের দামের ভূমিকা কখনোই অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়, কারণ দীর্ঘমেয়াদে এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা ও সম্ভাব্য পারফরম্যান্স নির্ধারণ করতে পারে। তাছাড়া, বিনিয়োগকারীদের মনে রাখা উচিত যে তেলের দাম ওঠানামা করলেও মুদ্রাস্ফীতি সবসময় একই দিকে চলে।

বিভিন্ন ক্ষেত্র ও শিল্পে তেলের জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। গরম রাখার পাশাপাশি পরিবহন ও উৎপাদনেও তেল লাগে। ফলে তেলের দাম বাড়লে ভোগ্যপণ্যের দামও অনিবার্যভাবে বাড়ে, সেই সঙ্গে বাড়ে জীবনযাত্রা ও পরিবহনের খরচ। বাজারের পরিস্থিতি অনুমান করতে ট্রেডাররা এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে পারেন—শুধু কমোডিটি বা বিশেষ করে ক্রুড অয়েল নয়, স্টক ও অন্যান্য অ্যাসেট ট্রেড করার সময়ও।
এ ক্ষেত্রে ক্রুড অয়েলের API ডেটা বেছে নেওয়া ভালো সমাধান হতে পারে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজারের একটি চিত্র পাওয়া যায়, পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডের সীমাবদ্ধতা ও সুদের হার সমন্বয়ের তথ্যও মেলে। এই পর্যালোচনায় আমরা ব্যাখ্যা করব, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট কোন ডেটা সংগ্রহ ও প্রকাশ করে এবং ট্রেডাররা কীভাবে তা নিজেদের সুবিধায় কাজে লাগাতে পারেন।
আগেই বলা হয়েছে, API-এর পূর্ণরূপ হলো আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট। এটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একদল কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করে, যারা নিয়মিত ক্রুড অয়েলের দাম, বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ রিপোর্ট প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো তেল পরিশোধন, উৎপাদন ও বিতরণের কাজে যুক্ত। কিছু কোম্পানি পেট্রোলিয়াম পণ্যে বিশেষজ্ঞ, আবার অন্যরা ডাউনস্ট্রিম থেকে আপস্ট্রিম পর্যন্ত তেল উৎপাদনের সব ধাপে কাজ করে।



1919 সালে প্রতিষ্ঠিত API-তে 600টিরও বেশি কোম্পানি ও সদস্য রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো প্রাসঙ্গিক ডেটা ও পরিসংখ্যান তৈরি করা। সর্বোচ্চ নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা শিল্পের মানদণ্ড মেনে গভীর গবেষণা করেন।
1929 সালে তথাকথিত সাপ্তাহিক পরিসংখ্যান বুলেটিন চালুর মধ্য দিয়ে API-এর যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে। এতে তেল উৎপাদন, পরিশোধন ও বিতরণ কার্যক্রম-সংক্রান্ত বিপুল তথ্য ও পরিসংখ্যান রয়েছে। প্রধান কয়েকটি পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি ও রপ্তানিসহ আরও কিছু বিষয়ও এতে তুলে ধরা হয়েছে:
বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রধান সুবিধা হলো, বুলেটিনে মোট তেল উৎপাদন ও পরিশোধনের 80%-এরও বেশি তথ্য রয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় কয়েকটি ধাপ রয়েছে। প্রথমে, API-এর বিশেষজ্ঞরা সংশ্লিষ্ট সব কোম্পানির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন—সেগুলো API-এর সদস্য হোক বা না হোক। পরের ধাপে, সংগৃহীত ডেটা EIA-এর কাছে পাঠানো হয়। এই পর্যায়ে, উভয় সংস্থারই ডেটা যাচাই করার কথা। পেশাদার ট্রেডাররা API-এর তুলনায় EIA-এর রিপোর্টকে বেশি নির্ভুল বলে মনে করেন। তবে এটি অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে।
দ্রষ্টব্য: রিপোর্টটি দেখতে চাইলে, প্রতি মঙ্গলবার বিকেল 4:30টায় (ইস্টার্ন টাইম) প্রকাশিত অফিসিয়াল বুলেটিনটি অনুসরণ করতে হবে।
সংগৃহীত ডেটার সাহায্যে ট্রেডাররা জ্বালানি বাজারের সামগ্রিক চিত্র পেতে এবং বিশ্বজুড়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে পারেন। নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ:
তেল ও স্টক ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিষয়গুলোই প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে। এই বিষয়ে আপনার ভালো ধারণা থাকলে, তেল পরিশোধন ও উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি বেশ পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবেন। খারাপ খবর হলো, API ও EIA—উভয় সংস্থার রিপোর্টই কিছু ট্রেডারের প্রত্যাশার মতো নির্ভুল নয়।
তাই, আপনার প্রত্যাশার চেয়ে সরবরাহের মজুত বেশি দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এখানে আমরা একটি বিয়ারিশ সংকেতের উদাহরণ দেখছি। সরবরাহ আপনার প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে চাহিদা আরও জোরালো হবে।