
সব বাজার পুরোপুরি চালু হওয়ার পর মনোভাব নেতিবাচক হয়েছে, কারণ ট্রেডাররা ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তাদের দরপতনের প্রত্যাশা নতুন করে মূল্যায়ন করছেন। বালিতে G20 বৈঠক নিয়ে উদ্বেগ এবং ফেড নীতিনির্ধারক ক্রিস্টোফার ওয়ালারের হতাশাজনক মন্তব্যের সঙ্গে IMF-এর দুর্বল অর্থনৈতিক পূর্বাভাস যোগ হয়ে বাজারের মনোভাবের ওপর আরও নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে।
ঝুঁকি এড়ানোর মনোভাব মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধারকে সমর্থন করছে এবং স্বর্ণ ও অপরিশোধিত তেলের দাম কমিয়েছে। ফলে চীনা শেয়ারবাজারের শক্তিশালী অবস্থাও অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলোকে চাঙ্গা করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, বন্ড মার্কেটের দীর্ঘ ছুটি শেষ হওয়ায় মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ডে পুনরুদ্ধার হয়েছে। এর সঙ্গে USD আরও শক্তিশালী হওয়ায় USDJPY-র গতিও ত্বরান্বিত হয়েছে।
অন্যদিকে, crypto.com-এর CEO এবং Binance-এর প্রধানের ইতিবাচক মন্তব্যের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোতে সামান্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে।



প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিকে ঘিরে আশাবাদে ভাটা পড়েছে বাজারে
ফেডের ওয়ালার সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা সামনে রাখায়, সোমবারের শুরুতেও বাজারে নীতির মোড় ঘোরার আগের প্রত্যাশা বজায় ছিল। G20-তে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে না—এমন আশঙ্কাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ ছাড়া, বৈশ্বিক সম্মেলনে ইউরোজোন ও যুক্তরাজ্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে—এমন আশঙ্কায় উত্তেজনা বেড়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন। ইতিবাচক দিক হলো, চীন কোভিড-সম্পর্কিত বিধিনিষেধ ও নিয়ম শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। এতে দেশটির দুর্বল আবাসন খাত সহায়তা পেতে পারে, আর তা আশাবাদীদের মনোবল জুগিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
এর ফলে, প্রধান G10 মুদ্রা জোড়াগুলোর মধ্যে USDJPY সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে, চীন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক করার আশা প্রকাশ করায় AUDUSD ছিল বিপরীত দিকে। বাজারের এই পরিস্থিতিতে তিন মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সোনার দাম কমেছে, আর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা ভেঙেছে।
এক্সচেঞ্জ থেকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থপ্রবাহ সত্ত্বেও BTCUSD ও ETHUSD-এ আশাবাদ দেখা যাচ্ছে। FTX বিপর্যয়ের পর ক্রিপ্টো বাজারের শীর্ষস্থানীয়রা নিজেদের পণ্য ও সেবার পক্ষে কথা বলছে।
G20 ও ফেডের বক্তব্যের দিকে নজর
সোমবারের শুরুর দিকে অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু না থাকলেও, নিকট ভবিষ্যতে বাজারের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কেমন থাকবে তা নির্ধারণে G20-র খবর গুরুত্বপূর্ণ হবে। ওয়ালারের মিশ্র বার্তার পর ফেড নীতিনির্ধারকদের আরও বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। সামগ্রিকভাবে, ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর মাত্রা নির্ভর করবে গুণগত বিষয়গুলোর ওপর।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!