
মঙ্গলবার দিনের শুরুতে বাজার পুরোপুরি খোলার সময় প্রণোদনার প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক আশাবাদ বাজারের মনোভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হয়েছে। ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা USDJPY-কে সমর্থন করেছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর জ্বালানি বিলের সংকট সামাল দিতে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের প্রস্তুতিও GBPUSD-কে সমর্থন করেছে।
বন্ড ইল্ড বাড়লেও মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বজায় ছিল। তবে AUDUSD জোড়ার তুলনায় ডলারের সামান্য দরবৃদ্ধি হয়েছে। এর কারণ হতে পারে RBA-র ডোভিশ সুদবৃদ্ধি।
OPEC+ উৎপাদন কমানোর পদক্ষেপ সীমিত বলে মনে হলেও সোনা ও অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।
অন্যান্য বাজারে, Ethereum-এর Merge ঘিরে আশাবাদ এবং দুর্বল USD—সামগ্রিকভাবে উন্নত ঝুঁকি-মনোভাবের সঙ্গে মিলে BTCUSD ও ETHUSD-এর ক্রেতাদের পক্ষে গেছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস দেশের জ্বালানি বিলের সংকট সামাল দিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা পরিকল্পনা প্রস্তুত করছেন। পিপলস ব্যাংক অব চায়না রিজার্ভ রেশিও রিকোয়ারমেন্ট (RRR) কমিয়েছে, আর মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা চিপ খাতে আরও $50B বিনিয়োগের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন। অন্যদিকে, ইউরোপ ও জার্মানিও স্বল্পমেয়াদি গ্যাস/তেলের সংকট এবং বাড়তি দামের প্রভাব থেকে দেশীয় জ্বালানি সংস্থাগুলোকে রক্ষার প্রস্তুতি দেখিয়েছে। এর ফলে আরও প্রণোদনার প্রত্যাশা ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ বাড়িয়েছে বলে মনে হয়েছে।
তবুও মন্দার আশঙ্কা কাটেনি। ফলে Treasury বন্ডের ইল্ড তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও তা US ডলারকে ঊর্ধ্বমুখী করতে পারছে না। এর কারণ হতে পারে US ISM Services PMI প্রকাশের আগে উদ্বেগ, পাশাপাশি Fed-এর কড়া অবস্থান নিয়ে সাম্প্রতিক বাজি কমে আসা।
অন্যদিকে, RBA সুদের হার 50 bps বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও AUDUSD-এর ক্রেতাদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি, কারণ বিস্তারিত তথ্য থেকে অর্থনৈতিক উদ্বেগ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগামীকাল প্রকাশিত হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার Q2 GDP-র হতাশাজনক পূর্বাভাসও অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করে থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, OPEC+-এর উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতার সঙ্গে মিলে তেলের দামে সামান্য বৃদ্ধি এনেছে। তবে, উৎপাদন হ্রাসের পরিমাণ প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা মাত্রার চেয়ে কম বলে মনে হয়েছে। মন্দার উদ্বেগের সঙ্গে মিলে এটি জ্বালানি খাতের ক্রেতাদের চাপে ফেলছে।
সর্বোপরি, গুরুত্বপূর্ণ US ISM Services PMI এবং ECB-এর মুদ্রানীতি সভার ফলাফলের আগে বাজারজুড়ে শুক্রবারের তুলনামূলক দুর্বল মার্কিন কর্মসংস্থানের রিপোর্ট এবং প্রণোদনার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা ক্রিপ্টোকারেন্সির পক্ষে ছিল, আর Ethereum-এর Merge নিয়ে আশাবাদও এতে যোগ হয়েছে। তবে, আসন্ন কঠোর নীতিমালার আশঙ্কা BTCUSD ও ETHUSD-এর বুলিশ ট্রেডারদের উৎসাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেটার দিকে নজর
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের দুর্বল পরিসংখ্যান ও Fed কর্মকর্তাদের সতর্ক বক্তব্যের পর আগস্টের US ISM Services PMI খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করা হবে। একই সঙ্গে, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগ্রাসী সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়ে বাজারের প্রত্যাশাও কমছে। পরিসংখ্যান অব্যাহতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আরও দৃঢ় রূপান্তরের ইঙ্গিত দিলে, মার্কিন ডলারের ঊর্ধ্বমুখী গতি ফিরে আসতে পারে, যা পণ্যের বাজার ও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মুদ্রাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া, রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীনের উত্তেজনা নিয়েও আলোচনা বাজারের অংশগ্রহণকারীদের নজর কাড়তে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!