
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া স্কট বেসেন্টের শুল্ক নিয়ে বক্তব্য বাজারের মনোভাবকে দুর্বল করেছে। হোয়াইট হাউসের ফেডারেল ঋণ ও অনুদান স্থগিতের খবর, রাশিয়া নিয়ে উদ্বেগ এবং বিশেষত Nvidia-র শেয়ারসহ সেমিকন্ডাক্টর শেয়ারের দরপতনে ঝুঁকি এড়ানোর মনোভাব আরও বেড়েছে। ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কার্যকলাপের ইতিবাচক তথ্য এবং আবাসন বাজারের পরিসংখ্যান পাঁচ সপ্তাহের সর্বনিম্ন থেকে US Dollar Index (DXY)-এর পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে। ট্রেডাররা এই সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ বাজার-প্রভাবকগুলোর জন্য অপেক্ষা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (Fed), ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ECB) ও ব্যাংক অব কানাডার (BoC) মুদ্রানীতি বৈঠক, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মূল্যস্ফীতির তথ্য।
মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধার ও ঝুঁকি-বিমুখ মনোভাবের চাপে সোনা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, শেয়ারবাজার এবং প্রধান মুদ্রাগুলো ছিল। এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সোনার এক দিনে সবচেয়ে বড় দরপতন নজর কেড়েছে। এদিকে, টানা তিন দিন দরপতনের পর আজ ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রবণতার বিপরীতে চলেছে USDJPY। EURUSD, AUDUSD এবং NZDUSD-এর দর কিছুটা কমেছে, অন্যদিকে GBPUSD স্থির ছিল। ডলারের শক্তির প্রতিফলন হিসেবে USDCAD আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সোমবারের ইতিবাচক জার্মান IFO ডেটা এবং ECB প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দের আশাবাদী মন্তব্য EURUSD-এর ক্রেতাদের সমর্থন জুগিয়েছিল। তবে শক্তিশালী US ডলার এবং ECB-র সুদের হার কমার প্রত্যাশার বিপরীতে তা যথেষ্ট ছিল না। এদিকে, UK-র দোকানগুলোর দাম কমে যাওয়া এবং ডলারের ব্যাপক শক্তির চাপে GBPUSD তিন দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের শক্তি বৃদ্ধিতে USDJPY পাঁচ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং চার দিনের মধ্যে প্রথম দৈনিক উত্থান দেখিয়েছে। নেতিবাচক বাজার মনোভাব থাকা সত্ত্বেও ডলারের এই শক্তি বেড়েছে। জাপানের পরিষেবা খাতের মূল্যস্ফীতির ইতিবাচক তথ্য ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে সমর্থন করছে। এই সপ্তাহে ফেডের প্রত্যাশিত “হকিশ বিরতি”র আগে বাজারের অবস্থানও পেয়ারটির পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে। সামনে রয়েছে BoJ-এর সভার কার্যবিবরণী, যুক্তরাষ্ট্রের টেকসই পণ্যের অর্ডার এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট।
অস্ট্রেলিয়ান, নিউজিল্যান্ড ও কানাডিয়ান ডলারের মতো পণ্য-সংশ্লিষ্ট মুদ্রাগুলো দুর্বল বাজার-মনোভাবের চাপে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ডোভিশ দৃষ্টিভঙ্গি এবং চীন-সংক্রান্ত উদ্বেগ এ চাপ আরও বাড়িয়েছে। এর ফলে AUDUSD ও NZDUSD আগের দিনের পতন বাড়িয়েছে, আর মাসিক সর্বনিম্নের কাছাকাছি থাকা দুর্বল ক্রুড অয়েলের বাজারের সহায়তায় USDCAD শক্তিশালী রয়েছে।
শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিয়ে উদ্বেগের কারণে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সোনার দামে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের হুমকি। তবে, এক মাস ধরে গড়ে ওঠা বুলিশ চার্ট প্যাটার্নের সমর্থন, চীনের বিপুল পরিমাণে সোনা মজুত করা এবং বৃহত্তর বাজারের অনিশ্চয়তা মঙ্গলবারের শুরুর দিকে পতন থামাতে সাহায্য করেছে।
7 সপ্তাহের সাপোর্ট লাইন ভেঙে যাওয়ার পর বিক্রেতাদের চাপ কিছুটা থামায় অপরিশোধিত তেলের দাম 100-দিনের EMA থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। OPEC+ বর্তমান সরবরাহ পরিকল্পনা বজায় রাখছে—এ বিষয়ে Bloomberg-এর ইতিবাচক খবরও এই পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে। তবে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ট্রাম্পের আহ্বান এবং চীনের তেলের চাহিদা নিয়ে উদ্বেগের কারণে API-এর সাপ্তাহিক অপরিশোধিত তেলের মজুতের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ক্রেতারা সতর্ক রয়েছেন।



এর আগে বাজারজুড়ে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতায় Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর ওপর চাপ পড়লেও, ট্রাম্প প্রশাসনের শিল্পবান্ধব পদক্ষেপের প্রত্যাশা এবং ETF-এ শক্তিশালী অর্থপ্রবাহ ক্রিপ্টো ক্রেতাদের আশাবাদী রেখেছে। ফলে, BTCUSD টানা তিন দিন এবং ETHUSD টানা দুই দিন দরপতনের পর সামান্য বেড়েছে।
সোমবার অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডার শান্ত থাকলেও বাজারে নড়াচড়া দেখা গেছে। তবে আজকের গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টগুলো—ECB-এর Bank Lending Survey, প্রেসিডেন্ট লাগার্দের বক্তব্য এবং ডিসেম্বরের US Durable Goods Orders—ট্রেডারদের নজর কাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ডেটার কারণে মার্কিন ডলার আগের সপ্তাহের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারে, যা প্রধান মুদ্রা ও কমোডিটির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে, টেকনিক্যাল পরিস্থিতি এবং নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আকর্ষণের কারণে USDJPY ও সোনা এই প্রবণতার বিপরীতে যেতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!