
কেউ যদি “শর্ট যাওয়া” বা “শেয়ার শর্ট করা” বলেন, তাহলে নিশ্চিত থাকতে পারেন যে তিনি শর্ট সেলিং নিয়ে কথা বলছেন। ট্রেডারদের মধ্যে এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে কৌশল বদলানোর আরও সুযোগ থাকে, আর বিনিয়োগকারীরা ট্রেড করার জন্য আরও বিস্তৃত ইন্সট্রুমেন্ট বেছে নিতে পারেন।
শর্ট সেলিং কী?
শর্ট সেলিংয়ের প্রক্রিয়া যেভাবে কাজ করে
বাস্তব জীবনে শর্ট সেলিংয়ের উদাহরণ
শর্ট সেলিংয়ের প্রধান সুবিধাগুলো
শর্ট সেলিংয়ের উদাহরণ
মার্জিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কীভাবে শর্ট সেলিং শুরু করবেন
উপসংহার: শর্ট সেলিং ভালো না খারাপ?
কোনো ট্রেডার যখন “শর্ট করেন” বা “শর্ট পজিশন নেন”, তখন তিনি বিভিন্ন অ্যাসেট ট্রেড করেন। এর মধ্যে শেয়ার, মুদ্রা বা পণ্য থাকতে পারে। শর্ট সেলিংয়ের মূল ধারণা হলো, লেনদেনের সময় ট্রেডারের কাছে ওই অ্যাসেটগুলোর কোনোটি থাকে না।
এটা কীভাবে সম্ভব? নিজের মালিকানায় নেই এমন কিছু কীভাবে বিক্রি করা যায়? এ ক্ষেত্রে প্রথমে স্বল্প সময়ের জন্য অ্যাসেট ধার নেওয়া হয়, তারপর তা দ্রুত বিক্রি করা হয়। মনে রাখবেন, ধার নেওয়া বিনামূল্যে নয়। অ্যাসেট ব্যবহারের জন্য ট্রেডারদের সাধারণত ধার নেওয়ার ফি ও সুদের হার দিতে হয়।
এরপরের ধাপ হলো স্বল্প মেয়াদে অ্যাসেটের দাম কোন দিকে যেতে পারে, তা অনুমান করা। দাম কমলে, ট্রেডার কম দামে অ্যাসেটটি আবার কিনে ধার শোধ করেন এবং দামের পার্থক্যটুকু নিজের কাছে রাখেন। শুনতে বেশ সহজ, তাই না? তবে এই কৌশলে কিছু স্পষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। এর জন্য বাজারের গভীর বিশ্লেষণ, আগাম পরিস্থিতি বোঝা এবং দামের পূর্বাভাস দেওয়াও জরুরি।
তাহলে এত আলোচনা কিসের? কোনো স্টক শর্ট করা বলতে কী বোঝায়? ধারণাটি খুবই সহজ: যেসব স্টকের দাম কমতে চলেছে, সেগুলো বিক্রি করে আপনি মুনাফা করেন।

এই ধারণাটি কয়েকটি মূল ধাপ নিয়ে গঠিত। সেগুলো হলো:
ধাপ 1 – স্টক ধার নেওয়া। একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে, দাম কমতে পারে এমন একটি স্টক বেছে নিতে আপনি কোনো ব্রোকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেটি ধার নেন।
ধাপ 2 – স্টক বিক্রি করা। আপনি স্টকটি বিক্রি করে অপেক্ষা করেন।
ধাপ 3 – স্টক ফেরত দেওয়া। শেষ ধাপে, সর্বনিম্ন দামে স্টকটি কিনে ঋণদাতাকে ফেরত দিতে হয় এবং দামের পার্থক্য থেকে মুনাফা করতে হয়।
মুনাফার ভাগ পাওয়ার দারুণ একটি উপায়! আর্থিক বাজার চাপে থাকলে, স্টক শর্ট সেল করলে সর্বোচ্চ নমনীয়তা পাওয়া যায়। পেশাদার ও নতুন—দুই ধরনের ট্রেডারের জন্যই এটি উপযোগী।



বাস্তব বাজার পরিস্থিতিতে এই ধারণাটি কীভাবে কাজ করে, তা দেখে নেওয়া যাক। স্টক বা অন্যান্য অ্যাসেট কীভাবে বিক্রি করে শর্ট পজিশন নেওয়া যায়, তা বোঝাতে নিচের ধাপগুলো দেওয়া হলো:
পর্যায় 1
একজন ট্রেডার কোনো অ্যাসেট (স্টক, মুদ্রা, পণ্য ইত্যাদি) ধার নেওয়ার জন্য ব্রোকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অ্যাসেটটির মালিক না হলেও তিনি সেটিতে ট্রেড করতে পারেন। ধরা যাক, অ্যাসেটটির বর্তমান দাম 100 USD।
পর্যায় 2
পরের ধাপে, একজন ট্রেডার 100 USD দামে অ্যাসেটটি বিক্রি করে দাম কমা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। পূর্বাভাস সঠিক হলে এবং দাম 45 USD-এ নেমে এলে, ট্রেডার অ্যাসেটটি আবার কিনে নেন এবং 55 USD-এর পার্থক্য নিজের কাছে রাখেন।
পর্যায় 3
একজন ট্রেডার অ্যাসেটটি ব্রোকারকে ফেরত দেন। প্রকৃত মুনাফা কিছুটা কম হতে পারে, কারণ অ্যাসেট ধার নেওয়ার জন্য ব্রোকারের কমিশন ও সুদের হার বাবদ খরচও শোধ করতে হয়। খরচের পরিমাণ ব্রোকারভেদে আলাদা হয়।
সংক্ষেপে বললে, শর্ট সেলিং হলো এমন এক ধরনের ট্রেড, যেখানে ট্রেডার নিজের মালিকানায় নেই এমন কোনো অ্যাসেট বিক্রি করেন। শর্ট সেলিংয়ের সাধারণ উদ্দেশ্য হলো, অ্যাসেটটির বাজারমূল্য কমবে—এমন ধারণার ভিত্তিতে ট্রেড করা। খোলা পজিশনটি বন্ধ করার সময় ধার নেওয়া অ্যাসেটটি ফেরত দিতে হয়।
এই কৌশলটি বিভিন্ন ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে যায়। হেজিং বা জল্পনামূলক ট্রেডিং—দুই ক্ষেত্রেই আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন। হেজাররা ক্ষতি কমাতে পারেন, আর স্পেকুলেটররা সম্ভাব্য দরপতন থেকে মুনাফা করার সুযোগ পান।

তবে শর্ট পজিশন নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু স্পষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, নিচের সুবিধাগুলোর কারণে এই কৌশলটি বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে:
সুবিধাগুলো নিজের চোখে দেখতে, চলুন শর্ট সেলিংয়ের একটি উদাহরণ দেখে নেওয়া যাক।
ক্রুড অয়েল জনপ্রিয় ইন্সট্রুমেন্টগুলোর একটি। তাই বাস্তব জীবনের উদাহরণ হিসেবে আমরা এটি ব্যবহার করব। ধরা যাক, প্রতি ব্যারেলের দাম $45 নিয়ে বাজার খুলল। প্রচলিত ট্রেডিং পদ্ধতি ব্যবহার করলে, আপনি সম্ভবত ক্রেতা হিসেবে একটি পজিশন খুলতেন এবং প্রতিবার দাম বাড়লে সেই পার্থক্য থেকে আয় করতেন।

শর্ট সেলিংয়ে আপনি শুধু বাই পজিশনই খুলতে পারেন না, সেলার হিসেবেও ট্রেড করতে পারেন। দাম শিগগিরই কমবে বলে নিশ্চিত হলে, আপনি সঙ্গে সঙ্গে সেল পজিশন খুলতে পারেন। দাম কমে $44.50 হলে, বিক্রি করা প্রতি ইউনিটে আপনি $0.50 আয় করবেন।
জল্পনামূলক ট্রেডিং কৌশল হিসেবে শর্ট সেলিংয়ে এমন ফান্ডের প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত ট্রেডারদের হাতে থাকে না। এই কৌশল বেছে নেওয়া ট্রেডারদের সাধারণত একটি মার্জিন অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। এর মাধ্যমে ব্রোকার ও ট্রেডারদের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয়, যাতে ব্রোকাররা নির্দিষ্ট সুদের হারে অ্যাসেট ধার দিতে পারেন।

দুই পক্ষের মধ্যে একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তি হয়, যেখানে মূল বাধ্যবাধকতা ও দায়িত্বগুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকে। সেগুলো মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। চুক্তি ভঙ্গ করলে ঋণ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ পেতে পারে। ট্রেডারদের ক্ষেত্রে, এর মানে হলো বিক্রি করার মতো অ্যাসেট তাঁদের হাতে নাও থাকতে পারে।
“...এটা বেশ জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে। মানুষ মার্জিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন কেন?”
শর্ট সেলিংয়ের তুলনায় লং পজিশন নেওয়া কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয়। কোনো ট্রেডার অ্যাসেট কেনার জন্য খরচ করা অর্থটুকুই হারাতে পারেন। কিন্তু শর্ট পজিশনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। তাত্ত্বিকভাবে, সম্ভাব্য ক্ষতির কোনো সীমা নাও থাকতে পারে, অথবা মার্জিন কলের মাধ্যমে তা সীমিত হতে পারে। মার্জিন কল ট্রেডারের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক পরিণতি।
আপনি একটি মার্জিন অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। এখন আপনি আপনার ব্রোকারের কাছ থেকে ধার নিতে পারেন। কিন্তু আপনার ব্যালেন্স রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের নিচে নেমে গেলে মার্জিন কল আসে। এ ক্ষেত্রে, ব্রোকার প্রয়োজনীয় ফান্ড যোগ করতে অথবা খোলা পজিশন ও চুক্তিগুলো বন্ধ করতে বলে। ট্রেডার এই নির্দেশ উপেক্ষা করলে, ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিমাণ বজায় রাখতে ব্রোকারের যেকোনো পজিশন বন্ধ করার অধিকার রয়েছে।
এখানে প্রধান অসুবিধা হলো, শর্ট পজিশন নিলে সম্ভাব্য লোকসানের জন্য শুধু ট্রেডারই ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকেন। তাই আপনার শেয়ার লিকুইডেট হওয়া ঠেকাতে পর্যাপ্ত ফান্ড আছে কি না, তা নিয়মিত খেয়াল রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
শর্ট সেলিং কার্যকর হতে পারে। স্বল্প সময়ে বড় রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে এটি সাহায্য করে। তাছাড়া, ট্রেডারদের শুরুতেই বড় অঙ্কের টাকা জমা দিতে হয় না। শর্ট পজিশন নেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচ্য একমাত্র খরচ হলো ব্রোকারের ফি এবং ধার নেওয়ার কমিশন।
এ ছাড়া, এটি কয়েকটি ট্রেডিং পদ্ধতির মধ্যে একটি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে যাতে বিপাকে পড়তে না হয়, সে জন্য এই কৌশলটি অন্য কৌশলের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা ভালো। সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখবেন না।
আমাদের মতামত: শর্ট সেলিং অবশ্যই চেষ্টা করে দেখার মতো।
শর্ট সেলিং সম্পর্কে আরও জানতে চান? বাস্তবে এটি কীভাবে কাজ করে, তা জানতে আমাদের সেরা 7টি ট্রেডিং সিনেমা তালিকায় ‘দ্য বিগ শর্ট’ সিনেমাটি সম্পর্কে পড়ুন!
সঙ্গে থাকুন! আরও জানুন:
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।